Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) সংক্রমণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্য দফতর। বুধবারই ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আক্রান্ত ও তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকায় রোগী, তাঁদের পরিবার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আলাদা সুরক্ষা বিধি বাতলানো হয়েছে।
নিপা (Nipah) সংক্রমণ রোধে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ নির্দেশিকা
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা গাইডলাইন অনুযায়ী, নিপা (Nipah) আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর রক্ত, লালা কিংবা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা বাধ্যতামূলক। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এই ব্যক্তিদের টানা ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, আক্রান্তের সঙ্গে বদ্ধ বা ছোট জায়গায় সময় কাটানোকে ‘হাইরিস্ক’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরও পড়ুন:Nipah: রাজ্যে থাবা বাড়াচ্ছে নিপা ভাইরাস! আক্রান্ত আরও ৩, হোম কোয়ারিন্টাইনে ১০০ জন
হোম কোয়ারেন্টিন ও পর্যবেক্ষণ: কোয়ারেন্টিনে থাকাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দিনে অন্তত দু’বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি কোনো শারীরিক অস্বস্তি বা উপসর্গ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপ না করে দ্রুত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হতে হবে। এমনকি রোগীর ব্যবহৃত পোশাকের সংস্পর্শে এলেও ২১ দিন কড়া পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য ভবন থেকে প্রতিদিন ফোনের মাধ্যমে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হবে।
চিকিৎসা ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ব্যবহার: নিপা ভাইরাসের (Nipah) নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা এখনো আবিষ্কার না হওয়ায় স্বাস্থ্য দফতর পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। যাদের শরীরে কোনো উপসর্গ নেই, কিন্তু উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাঁদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উপসর্গ থাকা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে রেমডেসিভিরের মতো বিকল্প ওষুধের প্রয়োগ করা হবে।
আরও পড়ুন: Nipah Virus: মাস্ক পরলে কি নিপা থেকে নিস্তার?
স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা: নিপা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে টানা দুই সপ্তাহ বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ডিউটির সময় পিপিই (PPE) কিট ও মাস্ক ব্যবহার করলে তাঁদের আলাদাভাবে কোয়ারেন্টিন করার প্রয়োজন নেই।
হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার নিয়ম: আক্রান্ত (Nipah) রোগীদের ছাড়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি থাকছে। পাঁচ দিন অন্তর লালারস, রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করা হবে। যদি টানা দুই দিন রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তবেই রোগীকে ছুটি দেওয়া হবে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও অন্তত ৯০ দিন রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।


