Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রুজি-রোজগারের টানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার সময় ছত্তিশগড়ে রেল পুলিশের হাতে আটক হল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম এলাকার তিন কিশোর (Chattisgarh)। তাদের মধ্যে দু’জন এখনও নবম শ্রেণির ছাত্র। গুজরাটের সুরাটে একটি পাঁউরুটি কারখানায় কাজ করতে যাওয়ার পথেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় এই খবর গ্রামে পৌঁছতেই উদ্বেগে ভেঙে পড়ে পরিবার-পরিজন।

নাবালক শ্রমিক না ভাষাগত বৈষম্য (Chattisgarh)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই তিন কিশোরকে ট্রেন থেকে নামিয়ে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে নিয়ে গিয়ে রেল পুলিশ আটক করে। পরিবারের অভিযোগ, ট্রেনে হিন্দিতে কথা বলতে না পারায় এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে ভাষাগত বৈষম্যের প্রশ্ন উঠে এসেছে। যদিও একই দলে থাকা এক যুবক ফোনে জানায়, নাবালক হওয়ার কারণেই ওই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দলের বাকি সদস্যরা বয়সের প্রমাণপত্র দেখাতে পারায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
কারা এই তিন কিশোর (Chattisgarh)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম ব্লকের গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের ঝামটপুর গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর দম্পতি পূর্ণচন্দ্র দাস ও সুখীদেবীর একমাত্র পুত্র ষোলো বছরের কার্তিক দাস। সে বহরান জয়দুর্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। একই পাড়ার আরও দুই কিশোর রাকেশ দাস ও রতন দাস তার সঙ্গে সুরাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়েছিল। রাকেশও কার্তিকের সহপাঠী হলেও রতন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ন’জনের একটি দল গুজরাটে কাজে যাচ্ছিল, যার মধ্যে মুর্শিদাবাদের সালার থানা এলাকার দু’জন যুবকও ছিল।

আগেও কাজ করতে গিয়েছিল সুরাটে (Chattisgarh)
সূত্রের খবর বলছে, এই তিন কিশোর মাস দেড়েক আগেই সুরাটে গিয়ে কাজ করে এসেছিল। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে তারা বাড়ি ফিরে আসে। এরপর আবার একটি নতুন দলে যোগ দিয়ে কাজে যাওয়ার সময়ই এই বিপত্তি ঘটে। রাকেশের বাবা বাণেশ্বর দাস জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ফোন করে জানানো হয় ছত্তিশগড়ের একটি স্টেশনে তিনজনকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরে রায়পুরে রেল পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
প্রশাসন বনাম রাজনৈতিক চাপানউতোর
গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল হাজরা সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযোগ করেন, রেল পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের সময় হিন্দি বলতে না পারায় বাংলা ভাষাভাষী হওয়ার ‘অপরাধে’ তাদের আটকে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পরই তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ধারাবাহিক নির্যাতন চলছে। বিষয়টি আমি প্রশাসনিক স্তরে তুলেছি, যাতে দ্রুত তিনজনকে নিরাপদে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।”



