Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৬ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড় বিমানঘাঁটিতে ইতিহাস রচিত হল। ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force
) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং নেতৃত্ব দিলেন ছয়টি মিগ-২১-এর শেষ উড্ডয়নের (Khrushchev MiG-21)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শত শত ভেটেরান পাইলট, যাঁদের চোখে জল আর হৃদয়ে গর্ব। জল কামানের আর্চ দিয়ে বিমানের বিদায় জানানো হয়। এভাবেই অবসান ঘটল ছয় দশক ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম ভরসার নাম মিগ-২১-এর।
ভারতের আকাশে মিগ-২১-এর আগমন (Khrushchev MiG-21)
১৯৬১ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের কাছ থেকে ভারত প্রথম মিগ-২১ কিনে আনে (Su-57s Replace)। পাকিস্তান তখন পেয়েছিল আমেরিকার তৈরি এফ-১০৪ স্টারফাইটার। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৬৩ সালে চণ্ডীগড়ে অবতরণ করে প্রথম মিগ-২১। ধীরে ধীরে এটি হয়ে ওঠে ভারতীয় বায়ুসেনার মেরুদণ্ড। ১৯৯০-এর দশকে যেখানে আইএএফ-এর ৬০ শতাংশ যুদ্ধবিমানই ছিল মিগ-২১। ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমান— প্রায় ১২০০ মিগ-২১ উড়েছে দেশের আকাশে, যার মধ্যে নাসিক কারখানায় তৈরি হয়েছিল প্রায় ৮০০।
যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের ইতিহাস (Khrushchev MiG-21)
১৯৬৫ সালের যুদ্ধে মিগ-২১-এর ব্যবহার সীমিত হলেও ১৯৭১ সালের ইন্দো-পাক যুদ্ধে এর আসল ক্ষমতা প্রকাশ পায় (Khrushchev MiG-21)। মিগ-২১এফএল একের পর এক এফ-১০৪ ভূপাতিত করে পাকিস্তানের স্টারফাইটার প্রকল্পকে ব্যর্থ করে দেয়। মাত্র ১১ বছর ব্যবহারের পর পাকিস্তান বাধ্য হয় বিমানটি অবসর নিতে। মিগ-২১ ভারতকে শুধু আকাশযুদ্ধে সুবিধাই দেয়নি, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তোলে।

আরও পড়ুন : Ladakh Unrest : লেহতে “উসকানিমূলক মন্তব্য”-এর জেরে অশান্তি! গ্রেপ্তার হলেন সোনম ওয়াংচুক
মিগ থেকে তেজসের পথে(Khrushchev MiG-21)
বিগত দশকগুলোতে ভারত আরও মিগ মডেল পেয়েছিল— মিগ-২৩, মিগ-২৫, মিগ-২৭, মিগ-২৯ (Khrushchev MiG-21)। কিন্তু ২০২৫-এ এসে আইএএফ-এর হাতে আর মিগ-২১ রইল না। অবসরের সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ— বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যা ৪২। ১৯৬২ সালের পর এটাই সবচেয়ে কম স্কোয়াড্রনের বায়ুসেনা।
এর মূল কারণ দেশীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্প এলসিএ তেজসের বিলম্ব। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড ২০২৪ থেকে তেজস সরবরাহ শুরু করার কথা থাকলেও ২০২৫ পর্যন্ত একটি বিমানও হাতে আসেনি। আমেরিকা থেকে ইঞ্জিন সরবরাহের দেরি এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে প্রকল্প আটকে আছে।
আরও পড়ুন : Calcutta High Court : কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে নজিরবিহীন নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার
নাসিক কারখানার ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক বিকল্প (Khrushchev MiG-21)
নাসিক কারখানায় একসময় তৈরি হতো মিগ-২১। সেখানেই এখন শেষ ব্যাচের সু-৩০এমকেআই তৈরি হচ্ছে (Khrushchev MiG-21)। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সু-৫৭ বানানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে ২০১৮ সালে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের কাছে এফ-৩৫-এর অফার দিয়েছেন। তবে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ আর কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সে সম্ভাবনা এখনই কার্যকর নয়।
ভবিষ্যতের পথে ভারতীয় বায়ুসেনা (Khrushchev MiG-21)
আইএএফ এখন তিনমুখী পরিকল্পনায় এগোচ্ছে— দেশীয় তেজস (মার্ক ১এ এবং মার্ক ২), ফরাসি রাফাল এবং সম্ভাব্য রাশিয়ান সু-৫৭(Khrushchev MiG-21)। ফরাসি রাফালের জন্য ভারতে নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি হবে। রাশিয়াও দাবি করেছে, নাসিক কারখানাই দ্রুত সু-৫৭ বানাতে সক্ষম। মিগ-২১ শুধু একটি যুদ্ধবিমান নয়, এটি ভারতীয় বায়ুসেনার সাহস, আত্মবিশ্বাস আর ঐতিহ্যের প্রতীক। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়, যেখানে দেশীয় প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আর ভবিষ্যতের লড়াইয়ের প্রস্তুতি মিলেমিশে তৈরি করবে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার নতুন রূপরেখা।


