Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: এই পদক্ষেপের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় (Supreme Court Grills ECI), সুপ্রিম কোর্ট ব্যবহারিক এবং আইনি ভিত্তির উল্লেখ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ থামায়নি।
বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনে আপত্তি, শুনানি ২৮ জুলাই (Supreme Court Grills ECI)
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বিহারে নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। আদালত পরামর্শ দেয় যে, চলমান এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড ও রেশন কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে (Supreme Court Grills ECI)। বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এবং জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, তারা এই বিষয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানি করতে রাজি হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২৮ জুলাই। নির্বাচন কমিশনকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করা হয়নি।
“গণতন্ত্রের মূলভিত্তি ভোটাধিকার, তা নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়” (Supreme Court Grills ECI)
বিচারপতি ধুলিয়া বলেন, “আপনি যদি বিহারে SIR প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব যাচাই করতে চান, তাহলে আগেই পদক্ষেপ করা উচিত ছিল, এখন অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে।” আদালতের মতে, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকা সংশোধন শুরু করাটা প্রশ্ন তুলতে বাধ্য (Supreme Court Grills ECI), কারণ এটি সরাসরি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করে।
কমিশনের কর্তৃত্ব নিয়ে আপত্তি খারিজ আদালতের
পিটিশনাররা – যাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের নেতারা ও বিভিন্ন সমাজকর্মী সংগঠন রয়েছে – দাবি করেছিল যে নির্বাচন কমিশনের এই সংশোধন প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতা নেই। তবে আদালত সেই দাবি খারিজ করে জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আদালত জানায়, বিহারে শেষবার এমন নিবিড় সংশোধন হয়েছিল ২০০৩ সালে।
আরও পড়ুন: Jan Dhan Yojana: জনধন অ্যাকাউন্ট বন্ধ হচ্ছে? কী বলছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক?
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
আদালতের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সিনিয়র আইনজীবী দ্বিবেদী বলেন, ভোটার তালিকা সঠিক রাখতে এই সংশোধন অত্যন্ত জরুরি। যাঁরা যোগ্য, তাঁদের যুক্ত করা এবং যাঁরা অযোগ্য, তাঁদের বাদ দেওয়া – এই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। কমিশন স্পষ্ট করে জানায়, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, কারণ সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শুধু ভারতীয় নাগরিকরাই ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। তিনি আরও বলেন, “যদি নির্বাচন কমিশনের এই ক্ষমতা না থাকে, তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করবে কে?” দ্বিবেদী আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, কোনো ভোটারের নাম শুনানি ছাড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না।
আধার নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত
বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে যে, SIR প্রক্রিয়ায় কেন আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য দলিলে ধরা হচ্ছে না। আদালত আরও জানায়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলি নির্বাচন কমিশনের নয়, তা কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে পড়ে।
আরও পড়ুন: Rupees 50 Coin: বাজারে আসছে ৫০ টাকার কয়েন? কী জানালো কেন্দ্র?
একাধিক পিটিশনে আদালতের দ্বারস্থ রাজনৈতিক নেতারা
এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই ১০টির বেশি পিটিশন দায়ের হয়েছে। NGO অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস ছাড়াও মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন RJD-এর মনোজ ঝা, তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল, NCP (SP)-এর সুপ্রিয়া সুলে, CPI-এর ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির হরিন্দর সিং মালিক, শিবসেনা (উদ্ধব)-এর অরবিন্দ সাওয়ান্ত, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সরফরাজ আহমেদ এবং CPI (ML)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।


