Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়াক্ফ আইন ২০২৫–এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী রায় দিয়েছে(Supreme Court On Waqf)। আদালত পুরো আইনে স্থগিতাদেশ না দিয়ে কেবল বিতর্কিত কয়েকটি ধারা কার্যকর রাখার উপর রোক জারি করেছে। এতে আংশিক স্বস্তি মিলেছে আবেদনকারীদের।
কোন কোন ধারা স্থগিত (Supreme Court On Waqf)
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, আইনটির মূলত তিনটি ধারা – ৩(আর), ৩সি ও ১৪ – নিয়ে গুরুতর আপত্তি উঠেছে। তাই সেগুলিতেই হস্তক্ষেপ করা হয়েছে(Supreme Court On Waqf)।
- ধারা ৩(আর): ওয়াক্ফ গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তত পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্ম পালন করার শর্ত রাখা হয়েছিল। আদালত বলেছে, নিয়ম প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এই শর্ত কার্যকর থাকবে না।
- ধারা ৩সি(২): কোনো সম্পত্তিকে ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করার আগে সরকারি মনোনীত আধিকারিকের রিপোর্ট আবশ্যক বলে যে ধারা ছিল, তা আপাতত স্থগিত।
- ধারা ৩সি(৪): কোনো জমি ওয়াক্ফ না সরকারি সম্পত্তি, তা নির্ধারণের ক্ষমতা কালেক্টরকে দেওয়ার বিধানও স্থগিত রাখা হয়েছে। বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, ‘‘নাগরিকদের অধিকারের প্রশ্নে নির্বাহী আধিকারিককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া সংবিধানের ক্ষমতার বিভাজনের বিরুদ্ধে।’’
বোর্ড ও কাউন্সিলের গঠন (Supreme Court On Waqf)
আদালত জানিয়েছে, আপাতত ওয়াক্ফ বোর্ডে সর্বাধিক তিনজন এবং ওয়াক্ফ কাউন্সিলে সর্বাধিক চারজন অমুসলিম সদস্য রাখা যাবে(Supreme Court On Waqf)। একই সঙ্গে আদালত বলেছে, যেখানে সম্ভব সেখানে এক্স-অফিসিও সদস্য মুসলিম সম্প্রদায় থেকে আসতে হবে।

আরও পড়ুন : Dam And Reservoir : দেশের বাঁধে পলি জমে কমছে ধারণক্ষমতা, বড় বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ রিপোর্টে
ওয়াক্ফ বাই ইউজার নিয়ে পর্যবেক্ষণ
সবচেয়ে বিতর্কিত ‘ওয়াক্ফ বাই ইউজার’ ধারা প্রসঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, ‘‘যদি সংসদ মনে করে যে এর মাধ্যমে সরকারি জমি দখল হয়েছে এবং সেই সমস্যা সমাধানে এই ধারা মুছে দেওয়া হয়েছে, তবে তা prima facie অযৌক্তিক বলা যাবে না।’’ তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এই সংশোধনীর প্রভাব অতীতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না(Supreme Court On Waqf)।
অন্যান্য ধারায় হস্তক্ষেপ নেই
ওয়াক্ফ সম্পত্তির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিধান আদালত বহাল রেখেছে। বেঞ্চ জানিয়েছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্তও এমন বিধান ছিল। তাই এটি নতুন কিছু নয়।
আরও পড়ুন : Calcutta High Court :জামিন মিললেই জেলমুক্তি পার্থর! প্রাথমিক নিয়োগ মামলার শুনানি শেষ, স্থগিত রায়দান
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া (Supreme Court On Waqf)
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে(Supreme Court On Waqf)।
- আবেদনকারীদের আইনজীবী এম আর শামশাদ বলেন, ‘‘ওয়াক্ফ বাই ইউজার বাদে আমাদের বেশিরভাগ যুক্তিই আদালত মেনে নিয়েছে।’’
- অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য সইয়দ কাসিম রাসুল ইলিয়াস জানান, ‘‘আমাদের অধিকাংশ যুক্তি আদালত গ্রহণ করেছে। এতে যথেষ্ট স্বস্তি মিলল।’’
- কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মন্তব্য করেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের উদ্দেশ্য ও চক্রান্তে লাগাম টেনেছে। যারা দান করেছিলেন, তাঁদের জমি সরকারের দখলে যাওয়ার আশঙ্কা দূর হল।’’
আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি এখনও চলছে। আদালতের অন্তর্বর্তী রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিতর্কিত ধারাগুলিকে আপাতত কার্যকর করা যাবে না। তবে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ওয়াক্ফ আইন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।


