Last Updated on [modified_date_only] by Megha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। হারিয়েছেন সরকারি বাসভবনে থাকার অধিকারও(Ex-CJI DY Chandrachud)। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় তারপরও সরকারি বাংলো দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে চিঠি লিখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। অবিলম্বে ওই বাংলো খালির ব্যবস্থা করতে হবে এবং শীর্ষ আদালতের বর্তমান বিচারপতিদের জন্য সেটিকে বরাদ্দ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় (Ex-CJI DY Chandrachud)
২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে চন্দ্রচূড়ের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়েছিল।সরকারি আইন অনুযায়ী, পদে আসীন থাকাকালীন একজন বিচারপতির টাইপ-৮ বাংলো প্রাপ্য। অবসর নেওয়ার পর টাইপ-৭ বাংলো দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে ছ’বাস বিনামূল্যে থাকতে পারেন তিনি। কিন্তু এক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের পর ছ’মাসের বেশই সময় কেটে গেলেও, চন্দ্রচূড় বাংলোটি ছাড়েননি বলে অভিযোগ। চন্দ্রচূড়ের উত্তরসূরী, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সরকারি বাংলো নেননি। বর্তমান প্রধান বিচারপতি গাভাইও সেই পথেই হেঁটেছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন কেউ বাংলো দখল করে রাখবেন, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের চিঠি (Ex-CJI DY Chandrachud)
গত ১ জুলাই সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে চিঠি পাঠানো হয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে(Ex-CJI DY Chandrachud)। অবিলম্বে বাংলোটি খালি করতে বলা হয়। চিঠিতে লেখা হয়, ‘কোনও দেরি না করে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের কাছ থেকে অবিলম্বে কৃষ্ণ মেনন মার্গে অবস্থিত ৫ নম্বর বাংলোটির দখল নিন। ৩১ মে পর্যন্ত বাংলোটি ধরে রাখার যে সময়সীমা ছিল, তা পেরিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, ৩বি বিধির আওতায় ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারিত ছ’মাসের সময়সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে।’চিঠিতে বলা হয়েছে, অবসর গ্রহণের এক মাস পরই নিজের উত্তরসূরীকে সেখানে ৩০ মে পর্যন্ত বাংলোটি ধরে রাখার আর্জি জানান তিনি। সেই মতো ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাসিক ৫৪৩০ টাকা ভাড়ায় বাংলোটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় তাঁকে। মৌখিক ভাবে করা সেই আবেদনে সায় দেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি খান্না। কিন্তু সেই বাড়তি সময়ের মেয়াদও শেষ।
আরও পড়ুন-Texas Flash Floods: হড়পা বানে লন্ডভন্ড আমেরিকার টেক্সাস! বাড়ছে মৃত্যু, নিখোঁজ বহু
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বক্তব্য (Ex-CJI DY Chandrachud)
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্য়ম সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাংলো ধরে রাখার নেপথ্যে ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়(Ex-CJI DY Chandrachud)। তাঁর দাবি, সরকারের তরফে ভাড়ায় নেওয়া বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে তাঁকে। কিন্তু সেখানে মেরামতি এবং সংস্কারের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেকথা আদালতকে জানিয়েওছিলেন তিনি। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বক্তব্য, ‘বিকল্প ভাড়াবাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু বাড়িটি দু’বছর ধরে বন্ধ পড়েছিল। সেখানে সংস্কারের কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টকে সেকথা জানিয়েছিলাম। ওই বাড়ির কাজ শেষ হলে, পরদিনই বাংলো ছেড়ে দেব বলে জানিয়েছিলাম আমি।’ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই কন্যার জন্য উপযুক্ত বাড়ি খুঁজতে সময় লাগে এবং সেই জন্য দেরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন-Mahua Moitra: বিহারের ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ; নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই কন্যা (Ex-CJI DY Chandrachud)
দুই মেয়েকে নিয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই মেয়ে আছে আমার(Ex-CJI DY Chandrachud)। গুরুতর কোমর্বিডিটিজ রয়েছে ওদের, জিনগত কিছু সমস্যা রয়েছে-বিশেষ করে নেমালিন মায়োপ্যাথি। এইমস-এ চিকিৎসাও চলছে ওদের। বুঝতে পারছি, এগুলো আমার ব্যক্তিগত সমস্যা। কিন্তু কেন দেরি হচ্ছে, তা পরিষ্কার ভাবে বোঝাতে চাইছি। আদালতকেও একথা জানিয়েছি। আর কিছুদিনের ব্যাপার, আমি চলে যাব। সর্বোচ্চ পদে আসীন ছিলাম আমি, নিজের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অবগত সম্পূর্ণ ভাবে। অতীতে অন্য বিচারপতিদের নির্ধারিত সময়ের পরও বাসভবন ধরে রাখতে দেওয়া হয়েছে।’বহু ক্ষেত্রেই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কিংবা বিচারপতিদের সরকারি বাংলোয় থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবে কোনও সরকারি বাসভবন খালি করতে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে চিঠি দিচ্ছে, এমন উদাহরণ আর রয়েছে কি না, তা অনেকেই মনে করতে পারছেন না।



