Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কোচবিহারের সভা (Suvendu Adhikari) থেকে এসআইআর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জবাবে সমাজ মাধ্যমে একটি লম্বা পোস্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, “রাজ্যে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (SIR) প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ এখন শেষের মুখে। খুব শিগগিরই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। লক্ষ লক্ষ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটারের বাদ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল, কারণ এই সব ভুয়ো অবৈধ ভোটার রা শেষ ২০০২ সালের SIR এ ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের নাম লিঙ্ক করতে ব্যর্থ।”
পৌরসভাগুলোর তৎপরতা (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, “পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Suvendu Adhikari) প্রমাদ গুনছেন, যে কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগেই রাজ্যের ব্লকে ব্লকে প্রশাসনিক ক্যাম্প করে এই সব অবৈধ, ভুয়ো ভোটারদের হাতে SIR সংক্রান্ত নথি তুলে দিতে তৎপর যাতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের ডাক পড়লে প্রয়োজনীয় ১৩টি নথির মধ্যে সংশ্লিষ্ট একটি যেমন SC, ST ও OBC শংসাপত্র দেখানো যেতে পারে। এর আগেও হঠাৎ করে প্রাপ্ত বয়স্কদের Birth Certificate বা জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরসভা এবং পৌরসভাগুলোর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। যাতে যে কোনো একটি বা দুটি নথি এই সব অবৈধ বা ভুয়ো ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের সামনে পেশ করতে পারে।”

পুরোনো অস্ত্রে শান দেওয়ার অপচেষ্টা (Suvendu Adhikari)
তিনি আরও লিখেছেন, “উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি কান্দি ব্লকের বিডিও (Suvendu Adhikari) কর্তৃক জারি করা ৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখের সরকারি আদেশ (মেমো নং ২৯৭২(৬)) টি নিচে দিলাম, যা এই অপচেষ্টার একটা অকাট্য প্রমান। যেখানে বলা হচ্ছে ৮ থেকে ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তিনটি ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে এবং সেখানে SC, ST ও OBC শংসাপত্র বিলি করা হবে। ইতিপূর্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ধর্মভিত্তিক বিলি করা OBC শংসাপত্রকে মহামান্য আদালত তার রায়ে বাতিল করেছেন। এই ক্যাম্প গুলিতে আবারো মরিয়া হয়ে পুরোনো অস্ত্রে শান দেওয়ার অপচেষ্টা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলদাস প্রশাসন।”
আরও পড়ুন: Rahul Gandhi: নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব রাহুল গান্ধী
বিরোধী দলনেতা আরও যোগ করেছেন, “অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কার্যকলাপের ফলে প্রকৃত SC/ST/OBC দের স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এইভাবে SC/ST/OBC শংসাপত্র বিলির ফলে প্রকৃতভাবে প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলি অর্থাৎ যারা SC, ST ও OBC তালিকাভুক্ত মানুষ তারা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবেন, যেহেতু এই অবৈধ শংসাপত্র প্রাপকরা শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার অধিকারে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলির জন্য গৃহীত প্রকল্প ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলিতেও ভাগ বসাবেন।

আমি ভারত নির্বাচন কমিশনের মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার-এর কাছে অনুরোধ করব তিনি যেনো ২৪ জুন, ২০২৫ (যেদিন ভারতবর্ষে SIR এর কাজ শুরু হয়) তারিখের পরে রাজ্য সরকারের দেওয়া যে-কোনও শংসাপত্র ও নথির প্রয়োজনীয় তদন্ত করে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অবৈধ ভোটার তৈরী করার কারখানা।”


