Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাশ্মীর উপত্যকার বরফঢাকা পাহাড় যতটা নৈসর্গিক, ঠিক ততটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে নিরাপত্তার দিক থেকে (Terror in Jammu)। গোয়েন্দা সূত্রে উঠে আসা তথ্য বলছে, শীতের মরসুমকে ঢাল করে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী। কিশতওয়ার ও ডোডোর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গোপনে আস্তানা গেড়ে সন্ত্রাসের নীলনকশা আঁকছে তারা যেন পুরাণের রক্তবীজ, কবর ফুঁড়ে আবার মাথা তুলছে।

অপারেশন সিঁদুরের পরেও কেন ফের মাথাচাড়া? (Terror in Jammu)
কিছু মাস আগেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদের একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। প্রত্যাশা ছিল, এই ধাক্কা দীর্ঘদিনের জন্য জঙ্গিদের কোমর ভেঙে দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সেই আঘাত ভুলে নতুন ছকে, নতুন পথে ফের সংগঠিত হচ্ছে তারা। দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট করে দেয়। শ্রীনগরের তলপেটে ফের সন্ত্রাসের বীজ বপন হয়েছে এ কথা কার্যত ‘কাচের মতো স্বচ্ছ’ হয়ে উঠেছে গোয়েন্দাদের কাছে।
পাহাড়ের নীরবতায় লুকিয়ে থাকা বিপদ (Terror in Jammu)
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশতওয়ার ও ডোডোর উঁচু এবং মাঝারি পাহাড়ি এলাকা বর্তমানে পাক জঙ্গিদের অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই সব অঞ্চলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত প্রায় নেই বললেই চলে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে জঙ্গিরা। এই দুর্গম পাহাড় থেকেই তারা জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে এখনই উপত্যকার মূল এলাকায় নামতে পারছে না তারা। কারণ, নিচের দিকে ভারতীয় সেনা একেবারে বন্দুক দেগে বসে রয়েছে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।
শীতই কি জঙ্গিদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র? (Terror in Jammu)
কাশ্মীরের শীত মানেই তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে যাওয়া, চারদিকে পুরু বরফের আস্তরণ। এই প্রতিকূল আবহাওয়া সাধারণত নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই সুযোগকেই নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে চাইছে জঙ্গিরা। বরফে ঢাকা উপত্যকা দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন, সেই ‘সাদা মেঘের’ আড়াল থেকেই নাশকতার ছক কষা হচ্ছে। সেনা অভিযান চলছে ঠিকই, কিন্তু তুষারপাত, প্রবল ঠান্ডা ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে জঙ্গিদের হাতেনাতে ধরা বা খতম করা সহজ হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: US Flight: একদিনেই বাতিল হাজারের বেশি উড়ান: ভ্রমণ মরসুমে আমেরিকায় চরম যাত্রী দুর্ভোগ
গোয়েন্দা সতর্কতা ও সেনার পাল্টা কৌশল
অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা বিভাগ ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ সেনাকর্তাদের সতর্ক করেছে। আশঙ্কা, শীতের মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরে বড়সড় কোনও সন্ত্রাসী হামলার ছক কষা হচ্ছে। সূত্রের খবর, অন্তত ৩০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি সক্রিয়ভাবে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। এই পরিস্থিতিতে সেনা বাহিনী প্রতিকূল আবহাওয়াকেও তোয়াক্কা না করে অভিযান শুরু করেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযান শুরু হতেই জঙ্গিরা চাপে পড়েছে। পাহাড়ে আটকে পড়ে তারা কার্যত কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।



