Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা সিনেমায় পাল্প ঘরানার কাজ খুবই বিরল (The Academy of Fine Arts)। কিন্তু জয়ব্রত দাস পরিচালিত ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’ যেন সেই শূন্যস্থানকে এক লাফে পূরণ করতে চায়। শুরুতে প্রায় কমেডির ছলে চলা গল্প কখন যে রক্তাক্ত নৃশংসতায় ঢুকে যায়, আর কখন যে দর্শক অস্বস্তিতে চমকে ওঠেন বুঝতেই দেন না পরিচালক। দু’টি পুরনো বাংলা প্রবাদ, ‘নেপোয় মারে দই’ এবং ‘যার ভাগ্যে যে খায়’ এই দুটোই যেন অদ্ভুতভাবে প্রযোজ্য হয়ে ওঠে এই ছবির মর্মে। কোনো বস্তু পাওয়া গেলেও তা অধরা থেকে যেতে পারে এটাই ছবির মূল সুর।

যে ‘বস্তু’ পুরো গল্প চালায় (The Academy of Fine Arts)
আলফ্রেড হিচককের চলচ্চিত্রভাষায় ‘ম্যাকগাফিন’ হলো এমন এক বস্তু বা লক্ষ্য, যাকে কেন্দ্র করেই গল্পের বাঁক-বদল ঘটে, অথচ সেটা দর্শকের কাছে শেষপর্যন্ত খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ছবির ম্যাকগাফিন একটি মদের বোতল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক শোনা যায়, বোতলটি নাকি স্তালিনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, এবং এটির বর্তমান মূল্য প্রায় কুড়ি কোটি টাকা। বোতলটি চুরি হয়ে গেলে কলকাতার দোর্দণ্ডপ্রতাপ মস্তান কিমলিং তাকে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

চরিত্ররা কেন সকলেই শিল্পী? (The Academy of Fine Arts)
ছবির প্রতিটি চরিত্রই কোনো না কোনো শিল্পকলায় দক্ষ। তাদের এই শিল্প কারও কাছে অভিশাপ, কারও কাছে পরিচয়। আর তাই ছবির নাম ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’। দীনবন্ধু মিত্র: কথক, শিল্পী, আর এক সম্ভাব্য জ্যাঙ্গো রুদ্রনীল ঘোষের অভিনীত এই চরিত্রের নামের মধ্যেই রয়েছে ইঙ্গিত। দীনবন্ধু মিত্র যাঁর ‘নীলদর্পণ’ নাটকে বর্ণিত নীলকণ্ঠ বা ‘জ্যাঙ্গো’দের অত্যাচারের ইতিহাস। আবার টারান্টিনোর ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’ এরও যেন স্মৃতি জাগে নামের মধ্যেই। তিনি ছবির বর্ণনাকার দর্শক তাঁর চোখ দিয়েই সব দেখেন। রসিকতা, আত্মদ্বন্দ্ব, ভয়, রাগ সবটাই অনায়াসে ফুটিয়ে তুলেছেন রুদ্রনীল।
ন্যায়বোধে চালিত এক নৃশংস হাতিয়ার (The Academy of Fine Arts)
সৌরভ দাস অভিনীত ‘জীবন’ ভীষণ প্রফেশনাল। কিন্তু সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝে নিলে সে মুহূর্তেই খুন করতে পারে।
তার চরিত্রের নৃশংসতায় কখনও মন্টু পাইলট–এর ছায়া পড়লেও এখানে সৌরভ আরও নিয়ন্ত্রিত, আরও অন্ধকার। ঋষভ বসুর সচিন এক রোমান্টিক লম্পট, আবার এক দক্ষ ড্রাইভার এবং সাজগোজের কারিগর। সঙ্গীদের যেকোনো বিপদে সে অদ্ভুত ছদ্মবেশে এসে পরিস্থিতি সামলায়। চরিত্রটিতে ঋষভ এমনভাবে ঢুকে গেছেন যে তাকেই বেছে নেওয়া একমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত। অমিত সাহার বীরেশ্বরের কোনো সংলাপ নেই। কিন্তু শরীরী ভাষা, চরিত্রের অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর শখ, এবং তার ‘মাংসলোভী’ মানসিকতা ছবিতে শিরশিরে ভয়ের জন্ম দেয়। নিঃশব্দ চরিত্রও কতটা শক্তিশালী হতে পারে, বীরেশ্বর তার প্রমাণ। সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের কিমলিং প্রথমে ভয় জাগায়, পরে চরিত্রের পরিবর্তনে অবাক করে। এমন উত্থান-পতন খুব কম অভিনেতাই এত স্বচ্ছন্দে দেখাতে পারেন।

বাংলা পাল্প ফিকশনে নতুন সংযোজন
‘বাদামি হায়নার রহস্য’–এর মতো কিছু কাজ ছাড়া বাংলা সিনেমায় পাল্প ঘরানার চেষ্টাই কম। এই প্রেক্ষিতে ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’ অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। এ ছবিকে পুরোপুরি পাল্প ফিকশন বলা যায় কিনা তা নিয়ে তর্ক হতে পারে, তবে এর গল্পের নির্মাণ, চরিত্রের বিকৃতি, সঙ্গীতের ব্যবহার এবং টারান্টিনো-ঘেঁষা ভাব সব মিলিয়ে এটি বাংলা সিনেমায় এক নতুন পরীক্ষা।



