Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এমন অনেক সিনেমা এসেছে, যা মুক্তির আগেই তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে (The Kerala Story 2)। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ‘কেরালা স্টোরি ২’। পরিচালক কামাখ্যা নারায়ণ সিং-এর এই ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন একে ‘বিষাক্ত প্রোপাগান্ডা’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাত-এর সভাপতি মওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি ছবিটির বিষয়বস্তু নিয়ে সরব হয়ে অভিযোগ তুলেছেন যে, এতে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে চলচ্চিত্র কি সমাজের বাস্তব প্রতিফলন, নাকি মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যম?

টিজার প্রকাশ ও বিতর্কের সূচনা (The Kerala Story 2)
ছবির টিজার মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় বিতর্ক। সেখানে একাধিক নারীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে যাঁদের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে তাঁদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। টিজারে এমন সংলাপ শোনা যায়, যা একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয় দেশকে মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনার উল্লেখও রয়েছে। এই উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করেই অভিযোগ ওঠে যে, সিনেমাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানতে পারে এবং এক বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নেতিবাচক বার্তা ছড়াতে পারে।
ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন (The Kerala Story 2)
মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন তাঁর বিবৃতিতে বলেন, কেরল বহুদিন ধরেই ধর্মীয় সহাবস্থানের উদাহরণ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের সিনেমা রাজ্যের সেই ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রথম ছবি The Kerala Story-তেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তখনও বলা হয়েছিল যে, কেরলকে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ছবিতেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলেই তাঁর মন্তব্য।
মিথ্যাচার ও অপমানের অভিযোগ (The Kerala Story 2)
অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কিছু নির্মাতা অর্থলাভের উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে উসকে দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, বাস্তব ঘটনাকে বিকৃত করে মুসলিম সম্প্রদায়কে অপমান করা হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, এই ধরনের সিনেমা সমাজে অবিশ্বাস ও বিদ্বেষ বাড়াতে পারে। তাই ছবির বিষয়বস্তু পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
শিল্পের স্বাধীনতা বনাম সামাজিক দায়বদ্ধতা (The Kerala Story 2)
চলচ্চিত্র নির্মাতারা সাধারণত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন। ভারতীয় সংবিধানও সেই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও জড়িত। ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত। যদি কোনও উপস্থাপনায় অতিরঞ্জন বা একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পায়, তাহলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আবার নির্মাতাদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তুলে ধরা শিল্পীর অধিকার। এই দ্বন্দ্বই মূলত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
আরও পড়ুন: Kolkata: কবীর সুমনের উদ্বোধনে একুশের বইমেলা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লায়েলকা মাঠে
সম্ভাব্য আইনি জট
বিতর্কের আবহে কেরল হাই কোর্টের তরফে নির্মাতাদের আইনি নোটিশ পাঠানোর খবর সামনে এসেছে। ফলে ছবির মুক্তি ঘিরে আইনি জটিলতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ভারতে এর আগেও বহু সিনেমা আদালতের নির্দেশে সংশোধন বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। তাই ‘কেরালা স্টোরি ২’-এর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর।



