Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: থাইল্যান্ডের দুই পৃথক চিড়িয়াখানায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ৭২টি বাঘের মৃত্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে (Tigers)। সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে বাঘগুলি ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে কীভাবে সংক্রমণ ছড়াল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনাটি এখন খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

কোথায় এবং কবে ঘটল এই ঘটনা? (Tigers)
সংবাদসংস্থা সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের Thailand-এর উত্তরাঞ্চলের Chiang Mai Province-এ। প্রদেশের মে তাইং (Mae Taeng) ও মে রিম (Mae Rim) জেলার দুটি পৃথক বন্যপ্রাণী পার্কে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একের পর এক বাঘের মৃত্যু ঘটে। সূত্রের খবর, এই ১০ দিনের মধ্যেই মোট ৭২টি বাঘ প্রাণ হারায়। এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক বাঘের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ মহলে।
অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় ছিল না! (Tigers)
প্রাথমিকভাবে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত বাঘগুলির শরীরে তেমন স্পষ্ট অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি। সূত্রের খবর, তারা হঠাৎ করেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল এবং খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা দেখাচ্ছিল। তারপর অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যু হচ্ছিল তাদের। এই অস্বাভাবিক উপসর্গহীন মৃত্যু তদন্তকারীদের আরও চিন্তায় ফেলেছে। কারণ, সাধারণত সংক্রামক ভাইরাসে আক্রান্ত প্রাণীদের ক্ষেত্রে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা যায়। এখানে সেই ধরনের স্পষ্ট লক্ষণ প্রথমদিকে ধরা পড়েনি বলেই দাবি করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তে কী জানা গেল? (Tigers)
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাঘগুলি ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। সূত্রের খবর, এই ভাইরাস সাধারণত কুকুর প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে ছড়ালেও বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মধ্যেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি শ্বাসনালী, পরিপাকতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যদি দ্রুত চিকিৎসা বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হতে পারে।
সংক্রমণের উৎস এখনও অজানা (Tigers)
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই ভাইরাস কীভাবে পার্কের বাঘদের মধ্যে ছড়াল? সূত্রের খবর, পার্কগুলির আশপাশে থাকা অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুর বা অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখনও কোনও নির্দিষ্ট উৎস চিহ্নিত করা যায়নি। তদন্তকারী দল নমুনা সংগ্রহ করে বিস্তারিত পরীক্ষা চালাচ্ছে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সতর্কতা (Tigers)
ঘটনার পরপরই দুই পার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বাকি বাঘগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। যেসব বাঘ এখনও সুস্থ আছে, তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জীবাণুমুক্তকরণ, কোয়ারেন্টিন ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ রোধে টিকাকরণ ও নজরদারি ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: Naihati Boro Maa: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান? বড়মার দর্শনে চালু হচ্ছে নো-লাইন নিয়ম
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় সংখ্যায় বাঘের মৃত্যু শুধু থাইল্যান্ড নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাঘের সংখ্যা সীমিত। ফলে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে একসঙ্গে ৭২টি বাঘের মৃত্যু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থাগুলিও বিষয়টি নিয়ে নজর রাখছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।



