Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশের দুধুয়া ন্যাশনাল পার্ক-এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Uttar Pradesh)। পার্কের বাফার জ়োনের অন্তর্গত ভিখামপুর হল্টের কাছে রেললাইনের ধারে উদ্ধার হয় একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। ঘটনাটি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় বন দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তে বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দ্রুতগতির কোনও ট্রেনের ধাক্কাতেই মৃত্যু হয়েছে ওই বাঘিনীর। মৃত বাঘিনীর বয়স আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় বছর বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা বিপদ (Uttar Pradesh)
দুধুয়া বাফার জ়োনের ডেপুটি ডিরেক্টর কীর্তি চৌধুরী জানান, বুধবার ভোরে ময়লানি রেঞ্জ এলাকায় নিয়মিত টহলদারিতে বেরিয়েছিলেন বনকর্মীরা। সেই সময়ই রেললাইনের ধারে বাঘিনীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল ঘিরে শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। বাঘিনীর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে রেললাইন পার হওয়ার সময় কোনও দ্রুতগামী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এছাড়াও বনকর্মীদের ধারণা, দুর্ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে, কারণ দিনের আলো ফোটার পরেই দেহটি নজরে আসে।

নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে বন দপ্তর (Uttar Pradesh)
ঘটনার পরই বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি (NTCA)-র নির্ধারিত গাইডলাইন মেনেই বাঘিনীর দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ, সময় এবং দুর্ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এরপরই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বন দপ্তর।
প্রশ্নের মুখে রেলপথ নিরাপত্তা (Uttar Pradesh)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে চলাচলকারী রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধুয়া ন্যাশনাল পার্কের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণ, আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।
পরিবেশবিদদের একাংশের দাবি, জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলা ট্রেনের গতি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়া উচিত,
একইসঙ্গে রেললাইনের আশেপাশে সেন্সর বা অ্যালার্ম ব্যবস্থা বসানো দরকার এবং রাতের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। দুধুয়া ন্যাশনাল পার্ক-এর এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, উন্নয়ন ও প্রকৃতি—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় আবারও সামনে এল রেলপথে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন। সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে দিয়ে চলা ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত নজরদারি এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থার দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবেশবিদরা। একটি বাঘিনীর মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং তা আমাদের বন্যপ্রাণ সুরক্ষার ব্যবস্থার ফাঁকফোকরকেই সামনে এনে দিল। এখন দেখার, প্রশাসন এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়।



