Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে ছড়ালো তীব্র অসন্তোষ। দীর্ঘদিনের বিধায়ক শওকত মোল্লাকে (Saokat Molla) সরিয়ে এই কেন্দ্রে মহম্মদ বাহারুল ইসলামকে প্রার্থী করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শওকত অনুগামীরা। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ যে, বুধবার ভোর থেকে ক্যানিং ও ভাঙড়ের সংযোগস্থলে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধে শামিল হলেন শয়ে শয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।
বিক্ষোভের মূলে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব (Saokat Molla)
মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা প্রকাশের পরেই শওকত মোল্লার খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ক্যানিং পূর্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাতেই শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ, যা বুধবার ভোরে চরম আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, ক্যানিং পূর্বের ভূমিপুত্র এবং দক্ষ সংগঠক শওকত মোল্লাকেই (Saokat Molla) ফের প্রার্থী করতে হবে।
আরও পড়ুন: Chandrima Bhattacharya: দেওয়াল লিখন দিয়ে শুরু, ফের জয়ের পথে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য…
তাঁদের অভিযোগ, দলীয় নেতৃত্ব এমন একজনকে প্রার্থী করেছেন যিনি এলাকায় ‘বহিরাগত’ হিসেবে পরিচিত। বাহারুল ইসলামের নাম মানতে নারাজ স্থানীয় কর্মীরা সাফ জানিয়েছেন, “যিনি সারাবছর মানুষের পাশে থাকেন, সেই শওকত সাহেবকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে আমরা নেতা হিসেবে মানব না।”
বুধবার সকাল থেকেই ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান অনুগামীরা। এর ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়, চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান খোদ শওকত মোল্লা (Saokat Molla)। তিনি কর্মীদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানান এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেন। কিন্তু নেতার আবেগপূর্ণ আবেদন সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই রদবদলের ফলে এলাকায় দীর্ঘদিনের মজবুত সংগঠনে ফাটল ধরতে পারে।
অস্বস্তিতে শাসকদল
ভোটের মুখে নিজের দুর্গে এমন বিদ্রোহ ঘাসফুল শিবিরের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে এই কোন্দল যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে ভোটের বাক্সে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিক্ষোভকে ‘সাময়িক আবেগ’ হিসেবেই দেখছে, তবে ক্যানিংয়ের রাজপথে আগুনের লেলিহান শিখা জানান দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।


