Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শান্ত, মনোরম প্রকৃতি আর বিশাল জলরাশির (Tornado in Odisha) মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন পর্যটকরা। হ্রদের হিমেল হাওয়া উপভোগ করছিলেন সকলে। কিন্তু আচমকা সেই নরম বিকেল রূপ নেয় এক বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষীতে।
‘ওয়াটারস্পাউট’ (Tornado in Odisha)
ওড়িশার চিল্কা হ্রদের উপরে আচমকাই দেখা যায় এক বিশালাকার (Tornado in Odisha) ঘূর্ণায়মান জলস্তম্ভ, যা হ্রদ থেকে উঠে আকাশে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রথমে উপস্থিত কেউই বুঝে উঠতে পারেননি, কী ঘটছে। অনেকে মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি বন্দি করেন, কেউ আবার হাঁ করে তাকিয়ে ছিলেন। পরে আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যায় জানা যায়, সেটি ছিল একটি ‘ওয়াটারস্পাউট’ (Waterspout) বা জল-টর্নেডো।

ঘূর্ণায়মান জলরেখা (Tornado in Odisha)
শুক্রবার চিল্কা হ্রদের কালিজাই মন্দিরে ভিড় করেছিলেন (Tornado in Odisha) বহু মানুষ। ঠিক সেই সময়েই দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হ্রদের উপর তৈরি হয় এই ঘূর্ণায়মান জলরেখা। স্থানীয় বাসিন্দারা একে আঞ্চলিক ভাষায় ‘হাতির শুঁড়’ নামে ডেকে থাকেন, কারণ এর আকার অনেকটা হাতির লম্বা শুঁড়ের মতো।
আরও পড়ুন: WB Weather Update: ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা, শীত আসছে কবে?
আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ সাহু জানান, এটি ছিল একটি জল-টর্নেডো, যা স্থলভাগের টর্নেডোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও আশঙ্কাজনক হতে পারে। বাতাস ও জলীয় কণার মিশ্রণে তৈরি এই জলস্তম্ভ সাধারণত বিরাট জলাশয়ের উপর তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, এমন ঘটনা মূলত আমেরিকা ও কানাডার মতো দেশে বেশি দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম উপকূলেও এ ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে।
বাতাসে চাপের তারতম্য
চিল্কা হ্রদে এমন দৃশ্য অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালেও ঠিক একই ধরনের জলস্তম্ভ দেখা গিয়েছিল। তবে এবারের ঘটনার সময়ে উপস্থিত ছিলেন অনেক পর্যটক, যার ফলে বিষয়টি মুহূর্তে ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্ম বা বসন্তকালে বিকেলের দিকে বাতাসে চাপের তারতম্য ঘটলে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এর ফলে তৈরি হতে পারে টর্নেডো বা ওয়াটারস্পাউট। যদিও এই ঘটনাটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনেনি, তবে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত মানুষদের মধ্যে। অনেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।


