Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) সম্প্রতি একের পর এক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক চাপিয়ে বিশ্ব বাজারে একপ্রকার ‘ট্যারিফ টেরর’ তৈরি করেছেন(Trump Tariff War)। এরই মাঝে ভারত তার পুরোনো মিত্র রাশিয়া এবং কূটনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও প্রতিবেশী চিনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে শুরু করেছে। এই নতুন সমীকরণই এখন আমেরিকার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিটার নাভারোর সরাসরি মন্তব্য (Trump Tariff War)
ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়া-চিনের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা “চিন্তার বিষয়”(Trump Tariff War)। তাঁর কথায়, “আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুঝবেন, ভারতের আসল জায়গা রাশিয়ার পাশে নয়। ভারতকে আমাদের সঙ্গে, ইউরোপ ও ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াতে হবে।” নাভারো আরও প্রশ্ন তোলেন, চিনের সঙ্গে দীর্ঘ দশক ধরে শীতল যুদ্ধ এবং সংঘাতের ইতিহাস থাকার পরও কেন মোদী সরকার আজ রাশিয়া-চিনের কাছে ঝুঁকছে?
ভারত-রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক (Trump Tariff War)
ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক বহু পুরোনো (Trump Tariff War)। শীতল যুদ্ধের সময় থেকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে রাশিয়া সবসময় ভারতের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী ছিল। আজও ভারতের অস্ত্রভান্ডারের উল্লেখযোগ্য অংশ রাশিয়া থেকে আসা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বেড়েছে।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের দ্বৈত চিত্র
ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ ও সংঘাতের ইতিহাস থাকলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দু’দেশ বহুবার একসঙ্গে এসেছে। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) ও ব্রিকসের মতো মঞ্চে ভারত-চিন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে। এশিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে তাই চিনের সঙ্গে ভারতের এই সামঞ্জস্যকরণ গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : Calcutta High Court : সামাজিক বয়কটের নামে প্রতিনিয়ত হেনস্থা! নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে শ্রীলেখা
আমেরিকার কৌশলগত উদ্বেগ (Trump Tariff War)
আমেরিকার ভয়, রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ভারতের নৈকট্য যদি আরও বাড়ে তবে এশিয়ায় একটি নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হবে(Trump Tariff War)। এতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া পরোক্ষ সমর্থন পেতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার প্রভাব কমতে পারে।ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতি
আরও পড়ুন : Sukanta Majumdar : SIR মানে স্যার, দুষ্টু ছাত্রদের মতো দুষ্টু রাজনৈতিক দলকেও মানুষ করবে, খোঁচা সুকান্তর
ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র নীতি ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এর উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ কোনো একটি দেশের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অন্যদের বিরোধিতা করা নয়(Trump Tariff War)। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি ভারত আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বজায় রেখেছে। আমেরিকার চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সেই নীতিরই প্রতিফলন।
ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ভারত সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা ব্লকের পাশে দাঁড়াক। তবে ভারত তার জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গেও সমান তালে সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কূটনৈতিক ভারসাম্যই ভারতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্ত অবস্থানে রাখবে।


