Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিজের প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকেই উঠে আসা ভিন্নমত এই পরিস্থিতি যে কোনও দেশের রাজনীতিতে বিরল (Tulsi Gabbard)। আর সেই ঘটনাই এখন দেখা যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে এমন তীব্র প্রশ্ন আগে খুব কমই উঠেছে। নিচে বিষয়টি প্রবন্ধের আকারে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

প্রশাসনের ভিতরেই মতভেদ (Tulsi Gabbard)
ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে যখন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ড সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ লিখিত সাক্ষ্য দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে তথাকথিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর পর ইরান তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনর্গঠনের কোনও চেষ্টা করেনি। এই তথ্য সরাসরি বিরোধিতা করে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবি, যেখানে ইরানকে “আসন্ন পারমাণবিক হুমকি” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
“আসন্ন হুমকি” না থাকলে যুদ্ধ কি বৈধ? (Tulsi Gabbard)
আন্তর্জাতিক আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হল পূর্বপ্রস্তুতিমূলক আত্মরক্ষা বা আগাম আত্মরক্ষার অধিকার। কিন্তু তার জন্য প্রমাণ করতে হয় যে শত্রুপক্ষ থেকে “তাৎক্ষণিক বা আসন্ন হুমকি” রয়েছে। যদি গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা যায় যে: ইরান নতুন করে পরমাণু কার্যক্রম শুরু করেনি সামরিক হুমকির কোনও প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত নেই তাহলে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

সেনেটে চাপের মুখে গ্যাবার্ড (Tulsi Gabbard)
যদিও জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তুলসী গ্যাবার্ড এই সংবেদনশীল তথ্য এড়িয়ে গিয়েছিলেন, ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার -এর তীব্র জেরার মুখে তিনি তথ্য অস্বীকার করতে পারেননি। ওয়ার্নার সরাসরি অভিযোগ করেন, “এটি প্রেসিডেন্টের ভুল তথ্য আড়াল করার চেষ্টা।” এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রতিবাদের জেরে পদত্যাগ (Tulsi Gabbard)
এদিকে, ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করে পরিস্থিতিকে আরও নাটকীয় করে তোলেন। তার পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়: ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনও আসন্ন হুমকি ছিল না, এই যুদ্ধ “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির বিরোধী, এটি মার্কিন জনগণের সঙ্গে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা প্রশাসনের ভেতর থেকে এমন সরাসরি বিরোধিতা বিরল এবং তা রাজনৈতিক সংকটের গভীরতাকে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ (Tulsi Gabbard)
রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি আগেই জানিয়েছিলেন, ইরানে পরমাণু বোমা তৈরির কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, এবং পরিদর্শনে বাধা দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক অর্থাৎ, হুমকির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও তাৎক্ষণিক বিপদের প্রমাণও নেই যা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ (Tulsi Gabbard)
গত বছর গাজা যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালায়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’। দাবি করা হয়েছিল, ইরান ৬০% পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে যায় তবে Iran শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে যে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

আরও পড়ুন: CEO Complain Cell: ৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্য, সিইও দফতরে বিশেষ কমপ্লেন সেল
কোথায় দাঁড়িয়ে আমেরিকা?
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ মার্কিন রাজনীতিতে তিনটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে:
১. তথ্য বিকৃতি কি হয়েছে?
গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে।
২. যুদ্ধের সিদ্ধান্ত কতটা বৈধ?
যদি “আসন্ন হুমকি” না থাকে, তবে আন্তর্জাতিক আইনে এই হামলা প্রশ্নবিদ্ধ।
৩. প্রশাসনের ঐক্য কোথায়?
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বিরোধিতা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে সামনে আনছে।



