Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত মহাসাগর অঞ্চলে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে কূটনৈতিক ও সামরিক (Turkey Maldives Influence) সমীকরণ। সাম্প্রতিক সময়ে মালদ্বীপে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে-চীন কি ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে তার ভূমিকা কমাচ্ছে, নাকি পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো মিত্রদের মাধ্যমে নিজের কৌশল ‘আউটসোর্স’ করছে?
তুরস্কের উপস্থিতি (Turkey Maldives Influence)
সম্প্রতি মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবস উদযাপনে তুরস্কের উপস্থিতি (Turkey Maldives Influence) ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। এই দিবস মূলত ১৯৮৮ সালে ভারতের “অপারেশন ক্যাকটাস”-এর স্মৃতি বহন করে, যখন ভারতীয় সেনা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে একদল ভাড়াটে সৈন্যের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবার প্রথমবারের মতো সেই ভারতীয় অবদানকে একবারও উল্লেখ করেননি। বরং দিনটি জুড়ে দেখা গেছে তুরস্কের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনী ও সেই দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তা।
সামরিক কুচকাওয়াজ (Turkey Maldives Influence)
এবারের সামরিক কুচকাওয়াজে অনুপস্থিত ছিল ভারত প্রদত্ত (Turkey Maldives Influence) কোস্টগার্ড জাহাজ হুরাভি। তার জায়গা নিয়েছে তুরস্কের উপহার দেওয়া মিসাইল-সক্ষম নৌযান ধরুমাভান্থা। সমালোচকেরা একে “গ্যাস-খেকো ও ত্রুটিপূর্ণ” বলে বর্ণনা করলেও মুইজ্জু প্রশাসন সেটিকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরেছে “নতুন অংশীদারিত্ব”-এর নিদর্শন হিসেবে।
ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ
এর পাশাপাশি মালদ্বীপে উদ্বোধন হয়েছে তুরস্কের তৈরি ড্রোন চালিত এয়ার উইং। দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও এসব ব্যয়বহুল সামরিক বিনিয়োগে সরকার যে কতটা তুরস্কমুখী হয়েছে, তা স্পষ্ট। কৌশলগত দিক থেকে দেখলে, তুরস্ক এখন কেবল প্রতিরক্ষা সামগ্রী বিক্রিতে নয়, বরং উন্নয়নমূলক বিনিয়োগেও আগ্রহ দেখাচ্ছে। মালদ্বীপের দক্ষিণে হানকেদে ট্যুরিজম প্রকল্পে তুরস্কের একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে-যে প্রকল্পটি আগে চীনা সংস্থাকে দেওয়া হলেও তারা কাজ শুরুই করেনি। একইভাবে পাকিস্তানেও তুরস্ক একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) গড়ে তোলার প্রস্তাব পেয়েছে, যা বেলুচিস্তানের মতো অস্থির অঞ্চলে হলে সেটি হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ।
আরও পড়ুন: Zubeen Garg: জুবিন গর্গের গান কি এখন ক্লাস রুমে বাজবে?
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের বিরল খনিজ সম্পদের প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে একযোগে দুই ন্যাটো শক্তি-আমেরিকা ও তুরস্ক-পাকিস্তানে সক্রিয় হয়ে উঠছে, যা ভারতের জন্য স্পষ্টতই কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।
চীন এদিকে অপেক্ষাকৃত ‘নির্মাণ সহযোগী’ পরিচয়ে থেকেও গুপ্তচর জাহাজ ও সমুদ্র গবেষণার নামে উপস্থিতি জোরদার করছে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীনের এই ত্রিমুখী সমন্বয় যদি ক্রমে শক্তিশালী হয়, তবে ভারত মহাসাগরে ভারতের প্রভাবক্ষেত্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।


