Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ক্রিকেট মাঠে সাধারণত উত্তেজনা থাকে ব্যাট-বলের লড়াই ঘিরে। কিন্তু সেই মাঠই মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হল মৌমাছির ঝাঁকের আক্রমণে (Cricket Match)। উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলা-র সপ্রু স্টেডিয়ামে এক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন আচমকা মৌমাছির ঝাঁক হামলা চালায়। সেই আক্রমণেই প্রাণ হারান প্রবীণ আম্পায়ার মানিক গুপ্তা। ঘটনাটি গোটা ক্রিকেট মহলকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

নির্বিঘ্ন ম্যাচ থেকে হঠাৎ আতঙ্ক (Cricket Match)
সেদিন সপ্রু স্টেডিয়ামে স্বাভাবিক নিয়মেই চলছিল ক্রিকেট ম্যাচ (Cricket Match)। খেলোয়াড়, আম্পায়ার ও দর্শক সবাই ব্যস্ত ছিলেন খেলার আবহে। ড্রিঙ্কস ব্রেকের সময় মানিক গুপ্তা নিজের ম্যাচ শেষ করে অন্য একটি ম্যাচে দায়িত্বে থাকা সহকর্মী আম্পায়ারের সঙ্গে দেখা করতে যান। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ করে একঝাঁক মৌমাছি উপস্থিত সবাইকে আক্রমণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আক্রমণ এতটাই আকস্মিক ছিল যে কেউ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক।
পালাতে না পেরে মর্মান্তিক পরিণতি (Cricket Match)
মানিক গুপ্তার ভাই অমিত কুমার গুপ্তা জানান, মৌমাছির আক্রমণ শুরু হতেই সকলে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়তে থাকেন। কিন্তু বয়সে প্রবীণ হওয়ায় মানিক দ্রুত দৌড়তে পারেননি। ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। সহকর্মী আম্পায়ার জগদীশ শর্মার কথায়, “আমরা মাটিতে শুয়ে পড়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু মৌমাছিরা মানিক ভাইকে পুরোপুরি ঘিরে ধরে। তাঁকে মারাত্মকভাবে দংশন করা হয়।” অন্যরাও আহত হলেও মানিক গুপ্তার উপর আক্রমণের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। শেষপর্যন্ত সেই আক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ তিন দশকের আম্পায়ারিং জীবন (Cricket Match)
প্রায় ৩০ বছর ধরে আম্পায়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মানিক গুপ্তা। তিনি কানপুর ক্রিকেট মহলে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কানপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন-এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন এবং রাজ্যের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আম্পায়ার প্যানেলের সদস্য ছিলেন। প্রতিবেশী ভারতেন্দু পুরীর ভাষায়, “ক্রিকেটই ছিল তাঁর জীবন। পরিবারকে সমর্থন করার পাশাপাশি খেলার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অসাধারণ।”
আরও পড়ুন: Mani Shankar: জন অরণ্যে বিলীন স্যাটা বোস এর স্রষ্টা, প্রয়াত সাহিত্যিক শংকর
মৌমাছির আক্রমণ
খোলা মাঠে মৌমাছির উপস্থিতি নতুন কিছু নয়, তবে এভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ অত্যন্ত বিরল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌমাছির বাসা বিরক্ত হলে বা কোনো শব্দ-কম্পনের কারণে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বড় জনসমাগমে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে মাঠের নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।



