Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিকাঠামো (Underwater Road Rail) উন্নয়নে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ব্রহ্মপুত্র নদের তলায় দেশের প্রথম সড়ক ও রেল টানেল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের তরফে শনিবার ১৮,৬৬২ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে ছাড়পত্র মেলে। কেন্দ্রের দাবি, এই টানেল শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই বদলে দেবে না, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষাতেও আনবে বড় পরিবর্তন।
আধুনিক হাইওয়ে নির্মাণ (Underwater Road Rail)
অসমের গোহপুর ও নুমলীগড়ের মধ্যে তৈরি হবে এই সুবিশাল (Underwater Road Rail) সুড়ঙ্গ। বর্তমানে দুই এলাকার মধ্যে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার এবং যাতায়াতে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা। ব্রহ্মপুত্র নদের কারণে দীর্ঘপথ ঘুরে যেতে হয়। নতুন টানেল চালু হলে দূরত্ব কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার এবং যাতায়াতের সময় নেমে আসবে প্রায় ২০ মিনিটে। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে পণ্যবাহী যান—সব ক্ষেত্রেই সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রকল্প অনুযায়ী, মোট দুইটি সমান্তরাল সুড়ঙ্গ তৈরি হবে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৫.৭৯ কিলোমিটার। এটি হবে ভারতের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় প্রকল্প, যেখানে একই অবকাঠামোর মধ্যে সড়ক ও রেলপথ একসঙ্গে থাকবে। টানেলের ভিতরে চার লেনের আধুনিক হাইওয়ে নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি থাকবে একটি বিশেষ রেল লাইন, যা সরাসরি দুই প্রান্তকে যুক্ত করবে।

দুটি সুড়ঙ্গের মধ্যে সংযোগকারী পথ (Underwater Road Rail)
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতি ৫০০ মিটার অন্তর দুটি সুড়ঙ্গের (Underwater Road Rail) মধ্যে সংযোগকারী পথ রাখা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য এই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, সংযোগকারী পথগুলি রেলওয়ে সেকশনের সঙ্গেও যুক্ত থাকবে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা বা প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়। গোহপুরে ১৫ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং নুমলীগড়ে ৭১৫ নম্বর জাতীয় সড়ক টানেলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ ব্রহ্মপুত্র তীরের যোগাযোগের ব্যবধান অনেকটাই কমে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসেব অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অসমের অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র একসূত্রে যুক্ত হবে। শিল্প, কৃষি, তেল শোধনাগার এবং ছোট-বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলির মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।
নতুন টানেল
পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই টানেল বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জাতীয় উদ্যান, ঐতিহাসিক স্থান এবং ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছনো সহজ হবে। নতুন টানেলের মাধ্যমে চারটি রেল স্টেশন এবং দুটি বিমানবন্দরে পৌঁছনোর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আশা কেন্দ্রের। শুধু অর্থনীতি নয়, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় সেনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। চীন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় দ্রুত মোতায়েনের সুবিধা বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন: Petrol Diesel Price: চাপের মুখে পাকিস্তান, হুড়মুড়িয়ে বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম!
উল্লেখ্য, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক সমীক্ষা ও প্রযুক্তিগত পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘চিকেন নেক’ করিডোরেও আরও একটি বড় টানেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের সংযোগকে আরও মজবুত করবে। সব মিলিয়ে, ব্রহ্মপুত্রের তলায় এই সড়ক-রেল টানেল উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার।


