Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মায়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ নতুন করে এক বড় শরণার্থী সংকট তৈরি করেছে(Rohingya Refeugee)। রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (UNHCR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দেড় বছরে আরও দেড় লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এঁদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ২০১৭ সালের ভয়াবহ গণহত্যা ও নিপীড়নের পর এটিই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সবচেয়ে বড় ঢল।
রিপোর্টে কী বলছে রাষ্ট্রপুঞ্জ? (Rohingya Refeugee)
UNHCR-এর মতে, ২০২3 সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার নতুন রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে(Rohingya Refeugee)। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। শরণার্থীদের অনেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হননি, তবুও তাঁরা কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করছেন।
কেন আবার পালাতে হচ্ছে? (Rohingya Refeugee)
মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশে বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে সেনা জুন্টা এবং বিদ্রোহী জোট থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স-এর মধ্যে(Rohingya Refeugee)। এই জোটের প্রধান শক্তি আরাকান আর্মি ইতিমধ্যেই রাখাইনের ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা দখল করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মংডু, বুথিডং এবং পালেতাওয়ার শহর। এই অঞ্চলই রোহিঙ্গাদের মূল বসবাসের জায়গা। সেনা ও বিদ্রোহীদের এই সংঘাতের মাঝখানে পড়ে আবারও অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ রোহিঙ্গা জনগণ।

আরও পড়ুন: HC On SSC Recruitment : নম্বরের বিভাজন কার সিদ্ধান্তে হয়েছিল? এসএসসি-র থেকে জানতে চাইল হাইকোর্ট
দ্বিমুখী বিপদে রোহিঙ্গারা (Rohingya Refeugee)
বিরোধী বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে অতীতে মায়ানমার সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছিল কিছু রোহিঙ্গা গোষ্ঠী। বিশেষ করে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (ARSA), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (RSO) ও আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি-র একাংশ সরকারি বাহিনীর হয়ে লড়াই করেছিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। এর জেরে এখন আরাকান আর্মির রোষানলে পড়ছে সাধারণ রোহিঙ্গা জনতা।ফলে আগুনে পুড়ে, ছাইয়েও খুঁজে পাচ্ছেন না আশ্রয়। প্রাণ বাঁচাতে তাঁদের একমাত্র গন্তব্য—বাংলাদেশ।
উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ সরকার (Rohingya Refeugee)
এই নতুন শরণার্থী ঢল নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রশাসন। প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গার ভার ইতিমধ্যেই বহন করছে বাংলাদেশ। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলিতে জায়গা সংকুলান নেই, নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতিও প্রতিদিন অবনতি হচ্ছে। নতুন অনুপ্রবেশ এই চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সমাধান কোথায়? (Rohingya Refeugee)
মায়ানমারে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক পুনর্বাসন ছাড়া এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবতায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সশস্ত্র সংঘাতের মাঝে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং রাষ্ট্রপুঞ্জকে মিলিতভাবে এই নতুন মানবিক সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসতেই হবে—অন্যথায় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে।


