Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশে শিশু নির্যাতনের এক শিহরণজাগানো (UP News) ঘটনায় নজিরবিহীন কঠোর রায়। ৩৩ জন নাবালক-নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ডার্ক ওয়েবে বিক্রির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে বিশেষ পকসো আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ—এই অপরাধের নিষ্ঠুরতা ও পরিকল্পিত চরিত্র একে ‘বিরলতমের মধ্যে বিরলতম’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কোথায়? (UP News)
ঘটনাটি উত্তর প্রদেশ-এর বান্দা (UP News) জেলার। পকসো আইনের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আদালত সেচ বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রাম ভবন এবং তাঁর স্ত্রী দুর্গাবতীকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধি, পকসো আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
সিবিআই-এর হাতে তদন্ত ভার (UP News)
জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় বছর আগে চিত্রকূট-এ নাবালক শিশুদের (UP News) আপত্তিকর ভিডিও ডার্ক ওয়েবে বিক্রির অভিযোগ সামনে আসে। বান্দা, চিত্রকূট ও আশপাশের জেলাগুলিতে একের পর এক শিশুর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআই-এর হাতে। তদন্তে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র। পাঁচ থেকে ষোলো বছর বয়সি শিশুদের টার্গেট করত অভিযুক্ত দম্পতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হত। কখনও টিউশনের নাম করে, কখনও উপহার বা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের ফাঁদে ফেলা হত বলে তদন্তে জানা গেছে।
নির্মম যৌন নির্যাতন (UP News)
এরপর চলত নির্মম যৌন (UP News) নির্যাতন। শুধু নির্যাতনই নয়—মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সেই ঘটনাগুলি ভিডিও আকারে রেকর্ড করা হত। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাজেয়াপ্ত হার্ডডিস্ক, মোবাইল ও স্টোরেজ ডিভাইস থেকে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর ভিডিও উদ্ধার হয়েছে। ওই ভিডিওগুলি এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম এবং ডার্কনেটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের কাছে বিক্রি করা হত। ২০২০ সালের অক্টোবরে রাম ভবন ও দুর্গাবতীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিবিআই চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে।
নির্যাতিত শিশুকে চিহ্নিত করা হয়
প্রাথমিক তদন্তে ৩৩ জন নির্যাতিত শিশুকে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিন বছরেরও কম বয়সি শিশুও ছিল—যা আদালতকে বিশেষভাবে বিচলিত করেছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, অভিযুক্তরা বিশ্বাসভঙ্গ করেছে এবং শিশুদের নিরাপত্তাকে চরমভাবে বিপন্ন করেছে। অপরাধ ছিল পরিকল্পিত, ধারাবাহিক এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সংঘটিত—যা অপরাধের মাত্রাকে আরও গুরুতর করেছে।
সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা
তদন্ত চলাকালীন সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগও ওঠে দুর্গাবতীর বিরুদ্ধে। আদালত সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে।মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক নির্যাতিত শিশুর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শিশুদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Gujrat Car Accident: বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যু
শিশু সুরক্ষা ও সাইবার অপরাধ—দুই ক্ষেত্রেই এই রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ডার্ক ওয়েবের অপব্যবহার করে শিশুদের উপর এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলল আদালতের রায়ে। সমাজে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনব্যবস্থার আরও সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন—এই বার্তাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল বান্দা আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ে।


