Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার (US Iran Tensions) মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করল আমেরিকা। প্রায় ১২টি অত্যাধুনিক এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ইজ়রায়েল-এ। সূত্রের খবর, ওই যুদ্ধবিমানগুলির কয়েকটি ইতিমধ্যেই ইজ়রায়েলের মাটিতে অবতরণ করেছে। জানা গিয়েছে, ব্রিটেনের একটি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সাময়িকভাবে মোতায়েন ছিল এই এফ-২২গুলি। সেখান থেকেই সরাসরি ইজ়রায়েলের উদ্দেশে উড়ান দেয় তারা।
নতুন করে বৈঠকে বসার কথা (US Iran Tensions)
চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে (US Iran Tensions) নতুন করে বৈঠকে বসার কথা আমেরিকার। বহুদিন ধরেই এই চুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। একদিকে আলোচনার টেবিলে সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে মাটিতে-আকাশে শক্তি প্রদর্শন— এই দ্বৈত কৌশলই যেন এখন ওয়াশিংটনের মূল ভরসা।

পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের (US Iran Tensions)
ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিতে (US Iran Tensions) ছাড়েনি। পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আগে থেকেই মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বেড়েছে। ইরানের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় মার্কিন বিমান টহলও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর। এফ-২২ র্যাপ্টর বিশ্বের অন্যতম উন্নত স্টেলথ ফাইটার জেট। রাডারে ধরা না পড়ার ক্ষমতা, অত্যাধুনিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং উচ্চগতির আক্রমণ কৌশল— সব মিলিয়ে এটি মার্কিন বায়ুসেনার অন্যতম শক্তিশালী সম্পদ।

কৌশলগত বার্তা (US Iran Tensions)
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিমান সাধারণত (US Iran Tensions) কৌশলগত বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়। গত বছর ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনার সময়ও এফ-২২ তেহরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে আন্তর্জাতিক মহলে দাবি ওঠে। ফলে এবারের মোতায়েনকে নিছক নিয়মিত রদবদল হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। মার্কিন বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড এ ডেপতুলা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, “এফ-২২ মোতায়েনের অর্থ স্পষ্ট— আমেরিকা আলোচনায় আগ্রহী হলেও প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ করতেও প্রস্তুত।” বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই মোতায়েন ইরানের উপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। আসন্ন বৈঠকে ওয়াশিংটনের অবস্থান শক্ত করতে এই শক্তিপ্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: Brazil Rain: প্রবল বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত ব্রাজিল, মিনাস গেরিয়াসে ধস-বন্যার তাণ্ডব
ঘটনাচক্রে, এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ করল আমেরিকা, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইজ়রায়েল সফরে রয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজ়রায়েল, আমেরিকা এবং ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুধু ইরানকেই নয়, গোটা অঞ্চলের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। পশ্চিম এশিয়া বহুদিন ধরেই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ইজ়রায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং মার্কিন স্বার্থ— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে আলোচনার টেবিলে সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে আকাশে র্যাপ্টরের গর্জন— এই দ্বৈত বার্তা কি শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছতে সাহায্য করবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়াবে?
আসন্ন বৈঠকই সেই উত্তর দেবে। তবে আপাতত পশ্চিম এশিয়ার আকাশে মার্কিন এফ-২২-এর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


