Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: খেলতে খেলতে নর্দমায় পড়ে গিয়েছিল ছ’বছরের ছোট্ট শিফা (Uttar Pradeshp)। বয়সটা এমনই, যেখানে দুষ্টুমি আর খেলাই জীবনের একমাত্র সত্য। কিন্তু সেই খেলাই তার জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াল। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একটি শিশুমৃত্যুর খবর নয়, এটি মানবিকতার ভয়াবহ পতনের দলিল।

নিষ্পাপ শৈশবের করুণ পরিণতি (Uttar Pradeshp)
ঘটনাটি ঘটেছে গাজিয়াবাদের দসনা এলাকায় (Uttar Pradeshp)। অভিযুক্ত আক্রমের প্রথম স্ত্রী তারানার মৃত্যু হয়েছে আগেই। তারানার তিন সন্তান ছিল আক্রমের সঙ্গে, তাদেরই একজন ছ’বছরের শিফা। পরে আক্রম দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন নিশা নামের এক যুবতীকে। অভিযোগ, সৎ মায়ের স্নেহ নয়, শিফার কপালে জুটেছিল নির্যাতন আর ঘৃণা। ঘটনার দিন রাস্তার ধারে খেলছিল শিফা। আচমকাই সে পাশের নর্দমায় পড়ে যায়। নোংরা হয়ে যায় তার জামাকাপড়। এই ‘অপরাধে’ শিশুটির উপর নেমে আসে অকথ্য অত্যাচার। বাবা ও সৎ মা মিলেই বেধড়ক মারধর করে তাকে।
ঠান্ডা রাত, ছাদে ফেলে রাখা আধমরা শিশু (Uttar Pradeshp)
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের পর শিফাকে আধমরা অবস্থায় বাড়ির ছাদে ফেলে রাখা হয়। কনকনে শীতের রাতে, বিনা চিকিৎসায়, বিনা আশ্রয়ে ছোট্ট শিশুটি সারা রাত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছে। সকালে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। এই নির্মমতা কেবল শারীরিক নির্যাতন নয়, এটি মানসিক নিষ্ঠুরতারও চরম উদাহরণ।
ময়নাতদন্তে উঠে এল ভয়াবহ সত্য (Uttar Pradeshp)
প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। এসিপি প্রিয়া শ্রী পাল জানিয়েছেন, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শিফার শরীরে ১৩টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে পাঁজরের হাড়। শরীরের ভিতরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে তার। এই তথ্য প্রমাণ করে, শিশুটির মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড।

আরও পড়ুন: Ranjit Mallick: মল্লিক বাড়িতে উন্নয়নের পাঁচালি! ভোটের আগে সবচেয়ে বড় মাস্টারস্ট্রোক
গ্রেপ্তার বাবা ও সৎ মা
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বাবা আক্রম এবং সৎ মা নিশাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন ও শিশু নির্যাতনের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, শিশুটির উপর আগে থেকেও অত্যাচার চলত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



