Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের পর তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী–কে আর্থিক পুরস্কারে সম্মানিত করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Vaibhav Sooryavanshi)। তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে বৈভবের হাতে ৫০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মান শুধু একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং বিহারের ক্রীড়া-সংস্কৃতির জন্যও এক গর্বের মুহূর্ত।

অ্যানি মার্গে সম্মাননা অনুষ্ঠান (Vaibhav Sooryavanshi)
পাটনার অ্যানি মার্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ‘সংকল্প সভাঘর’-এ আয়োজিত হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে বৈভবের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রেয়সী সিং ও মন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী। চেক তুলে দিয়ে নীতীশ কুমার বলেন, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের নেপথ্যে বৈভব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মেধা, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশাবাদ এই তরুণ ক্রিকেটার ভবিষ্যতে আরও রেকর্ড গড়বে এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকার বৈভবের সাফল্যকে শুধু ক্রীড়া-জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; তাঁকে ভবিষ্যতের প্রেরণার প্রতীক হিসেবেও দেখছে।
অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বৈভবের দুরন্ত পারফরম্যান্স (Vaibhav Sooryavanshi)
ICC Under-19 Cricket World Cup–এ বৈভব সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। সাতটি ম্যাচে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৪৩৯ রান। তাঁর গড় ছিল ৬২.৭১ যা এই বয়সে অসাধারণ ধারাবাহিকতার প্রমাণ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ১৭৫ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। টুর্নামেন্টে একটি সেঞ্চুরি ও একাধিক অর্ধশতরান তাঁর ব্যাট থেকে আসে। ছোটদের বিশ্বকাপে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন; শীর্ষস্থানে ছিলেন ইংল্যান্ডের বেন মায়েস। এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয় এগুলি একজন তরুণ ব্যাটারের মানসিক দৃঢ়তা, বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতা এবং চাপ সামলানোর দক্ষতার পরিচয় বহন করে।

কঠিন সিদ্ধান্তের মোড় (Vaibhav Sooryavanshi)
বিশ্বকাপের পর বৈভবের সামনে ছিল জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষা। একটি পরীক্ষা দিলেও বাকি পরীক্ষাগুলি তিনি দেননি। কারণ, তাঁকে যোগ দিতে হয় আইপিএলের প্রাক-মরশুম প্রস্তুতিতে। এখানেই দেখা যায় একজন কিশোর প্রতিভার জীবনের কঠিন বাস্তবতা। শিক্ষা ও কেরিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ নয়। তবে বৈভবের এই সিদ্ধান্ত তাঁর পেশাদার মানসিকতার ইঙ্গিত দেয় তিনি জানেন, সুযোগ এলে তা কাজে লাগাতেই হয়।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা (Vaibhav Sooryavanshi)
গতবার আইপিএলের মেগা নিলামে বৈভবকে দলে নেয় Rajasthan Royals। ১.১০ কোটি টাকায় তাঁকে কিনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি রেকর্ড গড়ে। এত কম বয়সে এমন উচ্চমূল্যে চুক্তি এটাই প্রমাণ করে তাঁর সম্ভাবনার পরিধি কতটা বিস্তৃত। Indian Premier League–এ নেমেও বৈভব হতাশ করেননি। তিনি সেঞ্চুরি করে দেখিয়েছেন, বয়স তাঁর প্রতিভার পথে বাধা নয়। বরং বড় মঞ্চেই তিনি নিজের সেরাটা তুলে ধরতে পারেন। আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের বোলারদের বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়াই প্রমাণ করে, বৈভব শুধু ভবিষ্যতের তারকা নন বর্তমানেরও এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
বিহারের ক্রীড়া-সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত
বিহার দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের মূল স্রোত থেকে খানিকটা পিছিয়ে ছিল। কিন্তু বৈভব সূর্যবংশীর মতো প্রতিভার উত্থান প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিকাঠামো পেলে বিহার থেকেও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার উঠে আসতে পারে।নীতীশ কুমারের এই আর্থিক পুরস্কার তাই কেবল ব্যক্তিগত সম্মান নয়; এটি এক বার্তা প্রতিভাকে মূল্য দেওয়া হবে, সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এক বড় প্রেরণা।



