Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত সপ্তাহে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানের ধারা চলছিল (Vande Mataram)। এরই মাঝে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন যে তিনি ধর্মীয় কারণে এই গীতটি গাইবেন না ও কাউকে বাধ্য করা উচিত নয় এ কথা বলেন তিনি সংবাদমাধ্যমে। এই বক্তব্যের পরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে এবং ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া শোনা গেছে।

“নতুন জিন্নাহ” মন্তব্য ও নির্দেশ (Vande Mataram)
গোরক্ষপুরের ‘একতা যাত্রা’তে বক্তব্যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জিয়াউর রহমান-এর মতকে কঠোরভাবে নিন্দা করে বলেছেন যে দেশে “দ্বিতীয় জিন্নাহ” জন্ম নিতে দেওয়া যাবে না; এমন কাউকে যদি দেশের ঐক্য বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, “তাঁকে কবর দিতে হবে” এ ধরনের কড়া ভাষ্য তিনি ব্যবহার করেন। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের প্রত্যেক স্কুল ও কলেজে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়াকে বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইতিহাস ও আভিধানিক প্রেক্ষাপট (Vande Mataram)
বন্দে মাতরম বাঙালি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি গান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গে বহু বিতর্কের বিষয় থেকেছে। অনেকে এটি জাতীয় বা জাতীয়তাবাদী আবেগের পরিচায়ক হিসেবে দেখেন; অন্যদিকে কিছু লোক বিশেষত ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় কারণে এর নির্দিষ্ট কিছু স্তবে সমস্যাও দেখতে পান। কোনোকোনো পরিস্থিতিতে “কেউ গাইবে না” বা “কেউকে বলব না” এর মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কীভাবে জননীতিতে বা স্কুল-শিক্ষায় বাধ্যতামূলক করা যায়।
কাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ (Vande Mataram)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিহারের ভোটের আগে এমন প্রথম স্ফটিকবাক্য রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে একটি অংশে এটি ধর্ম ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ক জোরদারের প্রচেষ্টা, অন্যদিকে এটি প্রতিপক্ষকে জাতীয়তাবাদী দাবিতে গ্রাস করে আনা। যোগীর ঘোষণাকে যারা সমর্থন করছেন তারা এটিকে ‘দেশশক্তি’ বা সংহতি রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন; আর বিরোধীরা বলছেন এটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন: Vande Mataram: যেখানে জন্ম নিল ‘বন্দে মাতরম’, সেই লালগোলার রাজবাড়ি আজ এমন জীর্ণ কেন?
বাধ্যতা ও নাগরিক স্বাধীনতা
কীভাবে রাষ্ট্র বা রাজ্য কর্তৃপক্ষ স্কুল/কলেজে কোনো গান বাধ্যতামূলক করতে পারে? এবং (২) ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অধিকার কোথায় শেষ হয় এগুলো নীতিগত ও আইনি পর্যায়ে তোলা জরুরি। সংবাদ সূত্র অনুযায়ী জিয়াউর রহমান নিজেই উল্লেখ করেছেন যে সিবিল লাইসান্স/সুপ্রীম কোর্টের রায়ও আছে যা কাউকে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধ্য করা যায় না এমন যুক্তি তিনি উত্থাপন করেছেন। এই দিকগুলো ভবিষ্যতে আইনগত ভাবেও আলোচনা ও সমাধানের ভিত তৈরি করবে।



