Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লি সরকার এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশনকে চিঠি লিখে জানিয়েছে (Vehicle Impound Policy to Change) যে দিল্লিতে এন্ড-অফ-লাইফ (EOL) যানবাহনগুলিতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বন্ধ রাখা হোক।
পুরনো গাড়ি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পরিবেশ মন্ত্রীর (Vehicle Impound Policy to Change)
দিল্লিতে পুরনো গাড়িতে জ্বালানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে পিছু হটল দিল্লি সরকার (Vehicle Impound Policy to Change)। বৃহস্পতিবার রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা ঘোষণা করেন, দিল্লিতে এখনই কোনও ‘এন্ড-অফ-লাইফ ভেহিকল’ বা পুরনো গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হবে না। তিনি জানান, পুরনো গাড়ি নিয়ে সরকার নতুন কোনও পদ্ধতির পরিকল্পনা করছে। সিরসা বলেন, “আমরা দিল্লির পরিবেশের ক্ষতি হতে দেব না, আবার বাসিন্দাদের গাড়িও বাজেয়াপ্ত হতে দেব না।”
কমিশনকে চিঠি দিয়ে নির্দেশ স্থগিতের আবেদন (Vehicle Impound Policy to Change)
এর আগেই পরিবেশমন্ত্রী একটি চিঠি লেখেন কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM)-কে (Vehicle Impound Policy to Change)। তিনি লেখেন, “আমরা কমিশনকে অনুরোধ করছি যাতে নির্দেশিকা ৮৯-এর বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয় যতক্ষণ না স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকারী (ANPR) প্রযুক্তি পুরো এনসিআর-এ কার্যকর হয়।” ANI-কে দেওয়া সেই চিঠিতে দিল্লি সরকার জানায়, তাদের একাধিক উদ্যোগে ইতিমধ্যেই বায়ুদূষণ কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ANPR ব্যবস্থার একাধিক সীমাবদ্ধতার কথা। যেমন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সঠিক স্থানে ক্যামেরা না বসানো, এনসিআরের পার্শ্ববর্তী রাজ্যের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত না হওয়া, এবং অন্য রাজ্যে ANPR না থাকায় সমন্বিতভাবে নিয়ম কার্যকর করা সম্ভব না হওয়া। এছাড়াও, শুধুমাত্র দিল্লিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে গাড়ি চালকরা পাশের জেলাগুলিতে গিয়ে জ্বালানি নিতে পারেন, যা বেআইনি জ্বালানি বাজারকে উৎসাহ দিতে পারে।
জলমন্ত্রী ও বিধায়কদের আপত্তি (Vehicle Impound Policy to Change)
দিল্লির জলমন্ত্রী প্রবেশ বর্মা জানান, “ANPR বাস্তবায়নে প্রচুর সমস্যা আছে। এটা এতটা সহজ নয়।” তিনি আরও জানান, এই নিয়ম কার্যকর করার আগে দিল্লি সরকার CAQM-এর সঙ্গে বৈঠক করবে। বর্মা প্রশ্ন তোলেন, “গাড়ির বয়স দেখে নিষেধাজ্ঞা চাপানো ঠিক নয়। বরং গাড়ি কতটা দূষণ ছড়াচ্ছে, সেটা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।” তিনি বলেন, গুরুগ্রাম বা নয়ডার মতো পার্শ্ববর্তী শহরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। “এনসিআর-এ একসঙ্গে এই ব্যবস্থা না হলে দিল্লিতে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
হাইকোর্টে জ্বালানি ডিলারদের আবেদন (Vehicle Impound Policy to Change)
বুধবার দিল্লি হাইকোর্ট রাজ্য সরকার ও CAQM-এর কাছে জবাব তলব করে দিল্লি পেট্রোল ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের দায়ের করা মামলায়। এই মামলায় চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, কেন পেট্রোল পাম্পগুলোকে ELV নিয়ম কার্যকর করতে বলা হচ্ছে। জাস্টিস মিনি পুষ্কর্ণা এই বিষয়ে দুই পক্ষকে নোটিস জারি করে সেপ্টেম্বর মাসে শুনানির দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন: Maharashtra: নিয়ম ভাঙছে ‘বাইক ট্যাক্সি! রাস্তায় নামলেন মহারাষ্ট্রের পরিবহণ মন্ত্রী, ভিডিও ভাইরাল
অ্যাডভোকেট আনন্দ বর্মা, আদ্যাশা নন্দা এবং অপরূপা পাণ্ডে আদালতে বলেন, “পেট্রোল পাম্প চালকরা কোনও সরকারি সংস্থা নয়, তারা ব্যক্তিগত সংস্থা। তাদের আইনি ক্ষমতা নেই CAQM-এর নির্দেশ কার্যকর করার। তবুও তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ভুলবশত নির্দেশ না মানা গেলে জরিমানাও করা হচ্ছে।”
ডিলারদের বক্তব্য
ডিলারদের বক্তব্য, তারা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশে থাকলেও, আইনি প্রয়োগের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। ব্যক্তিগত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর উপর এই দায় চাপালে শাসনব্যবস্থার সীমা ঝাপসা হয়ে যায়। তারা আরও বলেন, মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট, ১৯৮৮–র ধারা ১৯২ ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ভিত্তিতে ডিলারদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এমন কিছু বিষয়ে যেগুলি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ডিলাররা আদালতে জানান, দিল্লির এক একটি পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন গড়ে ৩,০০০টি গাড়ি আসে। এত বেশি ভিড়ে সমস্ত নিয়ম শতভাগ মানা সম্ভব নয়। সামান্য ভুলেও বিশাল জরিমানার হুমকি ‘অত্যন্ত অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’।
আরও পড়ুন: India’s Power: শক্তি বাড়ছে ভারতের! অপ্রতিরোধ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চায় ব্রাজিল
সুপ্রিম কোর্ট ও এনজিটির পুরনো রায়
বর্তমানে দিল্লিতে চালু হওয়া এই নীতি ২০১৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় থেকে উৎসাহিত, যেখানে ১০ বছরের বেশি পুরনো ডিজেল গাড়ি এবং ১৫ বছরের বেশি পুরনো পেট্রোল গাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া, ২০১৪ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি রাস্তায় পার্ক করাও নিষিদ্ধ করে। তবে এই নির্দেশ বাস্তবায়নের পথে যে বহু আইনি, প্রযুক্তিগত ও নৈতিক প্রশ্ন উঠে আসছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিদিনের বিতর্ক ও আইনি পদক্ষেপে।


