Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ–পরিকল্পনায় প্রতিটি ধাপই যেমন প্রাসঙ্গিক (Kolkata Metro), তেমনই ভিক্টোরিয়া স্টেশনের নির্মাণ প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে এক বিশেষ আলোচ্য বিষয়। জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের অন্যতম কেন্দ্রীয় স্টেশন হিসেবে এটি শুধু পরিবহণ ব্যবস্থাকে আধুনিকতর করবে না, বরং একটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল অঞ্চলের নীচে যে ধরনের উচ্চ-প্রযুক্তির নির্মাণকৌশল প্রয়োগ হচ্ছে, তা কলকাতার মেট্রো নির্মাণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সাত মাসের পরিশ্রমের গুরুত্বপূর্ণ ফল (Kolkata Metro)
২০২৪ সালের এপ্রিলে যে রুফ স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল, সেটি সাত মাসের প্রচেষ্টার পরে এ বছর সম্পূর্ণ হলো। ৩২৫ মিটার দীর্ঘ এবং ২৩ মিটার প্রশস্ত এই স্ল্যাব শুধু কংক্রিটের পাত নয় এটি ভূগর্ভস্থ তিনতলা স্টেশনটির নির্মাণের অন্যতম মূল ভরকাঠামো। যেহেতু এটি ‘টপ–ডাউন কনস্ট্রাকশন’ পদ্ধতিতে নির্মিত হচ্ছে, তাই ছাদের স্ল্যাব সম্পূর্ণ না হলে নীচের স্তরগুলির কাজ শুরুই করা যেত না। ফলে এই কাজ শেষ হওয়া পুরো প্রকল্পের অগ্রগতিতে এক বড় সাফল্য।
ডায়াফ্রাম ওয়াল নির্মাণ (Kolkata Metro)
ভিক্টোরিয়া স্টেশন তৈরির প্রথম কাজ হিসেবে ডায়াফ্রাম ওয়াল নির্মাণ শুরু হয়। প্রায় ২০ মিটার গভীরে নেমে ২০২৪ সালের মে মাসে এই বিশেষ ধরনের কংক্রিটের দেয়াল নির্মাণ শুরু করে আরভিএনএল। নির্মাণ এলাকা ও আশপাশের এলাকা যেন একে অপরের উপর চাপ সৃষ্টি না করে, এবং গভীর খননের সময় মাটি ধসে না পড়ে তাই ডায়াফ্রাম ওয়াল নির্মাণ অত্যাবশ্যক ছিল। আট মাসে ৯০০ মিটার দীর্ঘ ‘ডি-ওয়াল’ সম্পূর্ণ হওয়ায় পরবর্তী রুফ স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজও নির্বিঘ্নে সম্ভব হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উদ্বেগ (Kolkata Metro)
নির্মাণস্থল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের অত্যন্ত নিকটে হওয়ায় প্রথম থেকেই সংশয় ছিল, “বৃহৎ নির্মাণকাজ কি ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে বিপদে ফেলবে?” নির্মাণের কম্পন, যন্ত্রপাতির চাপ, মাটিতে পরিবর্তন এ সবকিছু মিলিয়ে মেমোরিয়ালের গায়ে কোনও ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়। তাই বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা, কম্পন বিশ্লেষণ এবং নির্মাণপদ্ধতি মূল্যায়ন করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, এই প্রকল্প ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কোনও ক্ষতি করবে না। এই অনুমোদন পাওয়ার পরেই নির্মাণপ্রক্রিয়া পূর্ণ গতিতে এগোতে শুরু করে।

ভূগর্ভস্থ নির্মাণের আধুনিক প্রযুক্তি
ভিক্টোরিয়া স্টেশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল এর নির্মাণ কৌশল—টপ–ডাউন পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হল, প্রথমে উপরের স্ল্যাব নির্মাণ, তার পরে ধাপে ধাপে নীচের তলা ঢালাই, নির্মাণের সময় পাশের এলাকাকে সুরক্ষিত রাখতে ডায়াফ্রাম ওয়াল ব্যবহার, এ ধরনের পদ্ধতি সাধারণত ব্যবহার করা হয়, যেখানে স্থাপনার আশপাশ অত্যন্ত সংবেদনশীল, যেখানে ঐতিহাসিক স্থাপত্য রক্ষার প্রয়োজন, অথবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কম কম্পনে নিরাপদ নির্মাণ প্রয়োজন। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো স্থাপত্যের নিকটে কাজ করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি যথার্থ ও নিরাপদ।

আরও পড়ুন: Placement: চাকরির বাজারে বড় খবর: দেশের আইআইটিগুলিতে রেকর্ড নিয়োগ, প্রথম দিনেই ঝড়!
সামনের তিন মাসে কনকোর্স বা টিকিটিং লেভেলের কাজ শেষ করা হবে। তার পরেই শুরু হবে বেস স্ল্যাব ঢালাই, যার জন্য লাগবে কমপক্ষে পাঁচ মাস। কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশুশেখর মিশ্র জানিয়েছেন, ২০২৭ সালেই এই স্টেশন যাত্রী পরিবহণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। এটি চালু হলে পার্পল লাইনের কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ভিক্টোরিয়া স্টেশনের নকশা নিজেই এক প্রকৌশল বিস্ময়। প্ল্যাটফর্ম স্তর থাকবে মাটির ১৫ মিটার গভীরে, দৈর্ঘ্য ৩২৫ মিটার, প্রস্থ ২৩ মিটার, তিনতলা ভূগর্ভস্থ স্টেশন, অবস্থান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উত্তর–দিকের গেটের ঠিক কাছে বর্তমানে পার্পল লাইন জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রুটে যাত্রীসেবা দিচ্ছে। ভিক্টোরিয়া স্টেশন যুক্ত হলে শহরের দক্ষিণ–মধ্য অংশে যাতায়াত সহজতর হবে।



