Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ভারতীয় চলচ্চিত্রসংগীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয় এ এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিসর, যেখানে সুর, শব্দ আর আবেগ মিলেমিশে তৈরি হয় যুগের দলিল (Vishal Dadlani)। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে, এই শিল্পভুবনেও ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে ক্ষমতা, প্রভাব আর সুপারিশের অদৃশ্য জাল। অস্কারজয়ী এ আর রহমানের মন্তব্য থেকে শুরু করে অরিজিৎ সিংয়ের অবসর ঘোষণা এবং সবশেষে বিশাল দাদলানির বিস্ফোরক পোস্ট সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি প্রতিভাই শেষ কথা?

এ আর রহমানের মন্তব্য ও বিস্তৃত বিতর্ক (Vishal Dadlani)
সম্প্রতি এ আর রহমান মন্তব্য করেছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর গত আট বছরে বলিউডে তাঁর কাজের সুযোগ কমেছে। কারণ হিসেবে তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছিলেন এমন মানুষের দিকে, যাঁরা সৃজনশীল নন, অথচ ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। রহমানের এই বক্তব্য শুধু সঙ্গীত জগতেই নয়, রাজনৈতিক ময়দানেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। জানুয়ারি মাসজুড়ে সেই মন্তব্য ঘিরে আলোচনা, সমালোচনা ও পালটা যুক্তির ঢেউ ওঠে। রহমানের কথায় যেন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উঠে আসে সেই অস্বস্তিকর সত্য শিল্পের জায়গায় নীতিনির্ধারণ করছে ক্ষমতা, আর ক্ষমতার সান্নিধ্যই হয়ে উঠছে কাজ পাওয়ার প্রধান চাবিকাঠি।
অরিজিৎ সিংয়ের অবসর ও নীরব বার্তা (Vishal Dadlani)
এই বিতর্কের আবহেই প্লেব্যাক দুনিয়া থেকে অবসর ঘোষণা করেন অরিজিৎ সিং। যদিও তিনি সরাসরি কোনও রাজনৈতিক বা শিল্পগত কারণ উল্লেখ করেননি, তবু অনেকের কাছেই এই সিদ্ধান্ত ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অত্যন্ত জনপ্রিয়, শ্রোতাপ্রিয় এবং ধারাবাহিকভাবে সফল হয়েও কেন এক শিল্পী সরে দাঁড়াবেন এই প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকেই মনে করছেন, অরিজিতের নীরবতা আসলে সিস্টেমের প্রতি এক ধরনের প্রতিবাদ, যা কথার চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

সুপারিশের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান (Vishal Dadlani)
এই পরিস্থিতিতেই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত ‘সুপারিশ সংস্কৃতি’ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্ফোরণ ঘটালেন বিশাল দাদলানি। সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় লেখা এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন কাজ পাওয়ার জন্য কোনও নেতা, মন্ত্রী বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ কাউকে দিয়ে তাঁকে ফোন করালে উল্টে ফল হবে। বিশালের ভাষায়, এমনটা হলে শুধু কাজের সুযোগ নয়, তাঁর স্টুডিওর দরজাই চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে সেই শিল্পীর কাছে। এই ঘোষণায় কার্যত তিনি ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত এক ‘নীরব সত্য’কে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানালেন।
এক মন্ত্রী এবং ‘ব্লক’ করার বার্তা (Vishal Dadlani)
বিশাল দাদলানির পোস্টে আরও চাঞ্চল্য ছড়ায় একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ। তাঁর দাবি, সম্প্রতি এক উঠতি গায়ক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে দিয়ে তাঁর কাছে কাজের সুপারিশ করিয়েছিলেন। সেই ফোন পেয়েই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিশাল। শুধু ওই গায়কই নয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকেও তিনি ব্লক করে দেন। বিশালের সাফ কথা গায়ক যত ভালোই হোন না কেন, এই ধরনের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা তাঁর কাছে চূড়ান্ত অগ্রহণযোগ্য। প্রতিভার জায়গায় ক্ষমতার পরিচয় ঢুকিয়ে দিলে শিল্পের প্রতি তাঁর আগ্রহই শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
কোন পথে শিল্প?
এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এল সেই চিরন্তন দ্বন্দ্ব প্রতিভা না প্রভাব? বিশাল দাদলানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যাঁরা সুপারিশের পথে হাঁটেন, তাঁদের আসলে নিজের গুণের উপরই বিশ্বাস নেই। তাঁর মতে, সত্যিকারের শিল্পী হলে সময় লাগতে পারে, কিন্তু সুযোগ আসবেই। তিনি উঠতি শিল্পীদের উদ্দেশে পরামর্শ দেন নিজের প্রতিভার উপর আস্থা রাখুন, কঠোর পরিশ্রম করুন, ধৈর্য ধরুন। কিন্তু ভুলেও কাউকে দিয়ে সুপারিশ করাবেন না। কারণ তা শুধু বিরক্তিকর নয়, শিল্পজগতকে একঘেয়ে ও অসৎ করে তোলে।



