Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ফের একবার তীব্র অসন্তোষের ছবি সামনে এল (Vishva Bharati)। অভিযোগ, ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত নিয়ম মেনে জেনারেল কিচেনের খাবারের কুপন কাটা থাকলেও, পৌষমেলার ছুটিকে অজুহাত করে আচমকা খাবার পরিষেবা বন্ধের নোটিশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন হস্টেলে থাকা আবাসিক ছাত্রীরা।

বাইরে থেকে খাবারে কার্যত নিষেধ (Vishva Bharati)
ছাত্রীদের অভিযোগ, হস্টেলে অবস্থানরত পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে খাবার আনার উপর প্রশাসনের তরফে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। অথচ যে জেনারেল কিচেনের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে বাধ্য করা হয়, সেই কিচেনই মেলার ছুটির অজুহাতে খাবার দিতে অস্বীকার করছে। ফলে প্রশাসনের দ্বৈত নীতির শিকার হচ্ছেন পড়ুয়ারা।
রাতের অন্ধকারে বিক্ষোভ (Vishva Bharati)
বারবার প্রোক্টর অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও সুরাহা না মেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে বিক্ষোভে সামিল হন শ্রীসদন, বিড়লা, গোয়েঙ্কা-সহ একাধিক হস্টেলের আবাসিক ছাত্রীরা। শান্তিনিকেতনের হিন্দি ভবন সংলগ্ন সেকেন্ড গেটের কাছে থালা বাজিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা। ছাত্রীদের বক্তব্য, দিনের পর দিন সমস্যার কথা জানালেও কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়েই রাতের অন্ধকারে পথে নামতে হয়েছে।

পৌষমেলায় বন্ধ বাজার (Vishva Bharati)
ছাত্রীদের অভিযোগ, পৌষমেলার সময় ক্যাম্পাস সংলগ্ন অধিকাংশ বাজারই বন্ধ থাকে। ফলে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তার উপর রাত সাড়ে ন’টার মধ্যে হস্টেলে ঢোকার কড়া বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় জেনারেল কিচেন বন্ধ থাকলে বহু ছাত্রী না খেয়ে থাকার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
খাবারের মান ও পুষ্টি নিয়েও প্রশ্ন (Vishva Bharati)
আন্দোলনরত ছাত্রীরা জানান, শুধু খাবার বন্ধই নয় যে দিনগুলোতে খাবার পরিবেশন করা হয়, সেদিনও তুলনামূলক বেশি মূল্য নেওয়া হলেও নিয়মিতভাবে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। খাবারের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠে আসছে। তবে অভিযোগ সত্ত্বেও আচমকা পরিদর্শন বা কড়া নজরদারির অভাব রয়েছে বলে দাবি পড়ুয়াদের।
নজরদারির অভিযোগ (Vishva Bharati)
বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রীদের আরও অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে ওয়ার্ডেন ও অন্যান্য আধিকারিকরা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। এমনকি মোবাইলে ভিডিও রেকর্ডিং করে ছাত্রীদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা তাঁদের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: Koel Mallick: দুর্ঘটনার কবলে কোয়েল মল্লিক! শুটিং সেটে ভয়ানক বিপত্তি
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এত বড় ঘটনার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনরত ছাত্রীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ন্যায্য দাবি নিয়মিত খাবার সরবরাহ, মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা পূরণ না হলে আগামী দিনেও আন্দোলন চলবে। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, আন্দোলনের বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে পড়ুয়াদের প্রশ্ন, আশ্বাসের পর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে হবে?



