Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তর কুসুম এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Voter List)। অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে মৃত্যু হয়েছে মাহাবুব গাজী (৪৬) নামে এক দিনমজুরের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা সংশোধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিনের ভোটার অধিকার থেকে হঠাৎ অনিশ্চয়তা (Voter List)
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহাবুব গাজী পেশায় দিনমজুর হলেও দর্জির কাজ করতেন। তাঁর আদি বাড়ি সংগ্রামপুর এলাকায় হলেও বিয়ের পর তিনি উত্তর কুসুমে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোটার হিসেবে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে আসছিলেন বলে দাবি পরিবারের। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ২০০২ সালেও ভোট দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ছিল।
‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ অবস্থা (Voter List)
পরিবারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)-এর সময় সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হলেও, কিছু প্রশাসনিক অসংগতি দেখিয়ে তাঁর নামকে “আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” অবস্থায় রাখা হয়। এরপর বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।
মানসিক চাপেই অসুস্থতা, এরপর মৃত্যু (Voter List)
পরিবার জানায়, নাম বাদ যাওয়ার পর থেকেই মাহাবুব গাজী গভীর উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি বারবার সরকারি দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় ক্রমশ ভেঙে পড়েন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে বানেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
“হয়রানির শিকার হয়েই মৃত্যু” (Voter List)
মৃতের ছেলে ফারুক উদ্দিন গাজী অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবা ২০০২ সালেও ভোট দিয়েছেন। আমরা সব কাগজ জমা দিয়েছি। তবুও আমাদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ দেখানো হয়। বাবা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। বারবার দপ্তরে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। একই সুর শোনা যায় মৃতের দাদা মীর আলী গাজীর কণ্ঠেও। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির কারণেই এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে।

এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ (Voter List)
ঘটনার পর থেকেই উত্তর কুসুম ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ প্রশাসনিক জটিলতা ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কেন সাধারণ মানুষকে বারবার হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে?
আরও পড়ুন: Jungle Mahal: রাস্তা নেই, তাহলে ভোট কেন? জঙ্গল মহলে বয়কটের হুঁশিয়ারি!
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নথি যাচাই ব্যবস্থা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।



