Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা অসীম প্রান্তরের মধ্যে একা হেঁটে চলা একটি পেঙ্গুইনের দৃশ্য সাম্প্রতিক কালে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন এক অদ্ভুত আবেগের ঢেউ তুলে দিয়েছে (Penguin)। আবেগঘন গান , অর্থবহ ক্যাপশন ও গভীর দার্শনিক ব্যাখ্যার সঙ্গে ভিডিওটি ২০২৬ সালে নতুন করে ভাইরাল হয়ে পড়ে। নেটিজেনদের চোখে এই পেঙ্গুইন আর নিছক একটি প্রাণী নয় সে যেন ক্লান্ত, একাকী, উদ্দেশ্যহীন আধুনিক মানুষের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই আবেগঘন দৃশ্যের পেছনের বাস্তব গল্পটি আরও পুরনো, আরও কঠোর এবং অনেকটাই মানবিক ব্যাখ্যার বাইরে।
ভার্নার হারজগের ক্যামেরায় বন্দি বাস্তবতা (Penguin)
এই বহুল আলোচিত দৃশ্যটি আসলে জার্মান পরিচালক ভার্নার হারজগের ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রামাণ্যচিত্র Encounters at the End of the World থেকে নেওয়া। এই তথ্যচিত্রে হারজগ অ্যান্টার্কটিকার প্রকৃতি, সেখানে কর্মরত মানুষ এবং চরম পরিবেশে জীবনের লড়াই তুলে ধরেছেন। ডকুমেন্টারির একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একটি অ্যাডেলি পেঙ্গুইন তার কলোনি ও সমুদ্রের খাদ্যভূমি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার ভেতরের দিকে, স্থলভাগে হাঁটতে শুরু করেছে যেখানে শুধুই পাহাড়, বরফ আর অনিবার্য মৃত্যু অপেক্ষা করছে।
পেঙ্গুইনের উল্টো পথে যাত্রা (Penguin)
পেঙ্গুইন সাধারণত দলবদ্ধ প্রাণী। তারা সমুদ্রের কাছাকাছি থাকে, কারণ সেখানেই তাদের খাদ্য ও বেঁচে থাকার উপকরণ।
সেই প্রেক্ষিতে এই পেঙ্গুইনের একা হয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হাঁটা ছিল স্বাভাবিক আচরণের সম্পূর্ণ বাইরে। ভার্নার হারজগ নিজেই এই যাত্রাকে উল্লেখ করেন “ডেথ মার্চ” হিসেবে। তার ভাষায়, এই পথে এগিয়ে যাওয়া মানেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে হাঁটা ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই।
মানুষের তৈরি এক রূপক (Penguin)
ভিডিওটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেঙ্গুইনটির নাম হয়ে যায় “নিহিলিস্ট পেঙ্গুইন”।
মানুষ এই দৃশ্যের মধ্যে খুঁজে পেতে শুরু করে নিজেদের জীবনের প্রতিফলন, অস্তিত্ব সংকট, মানসিক ক্লান্তি, নিঃশব্দ বিদ্রোহ, সামাজিক প্রত্যাশা থেকে পালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কারও চোখে এটি Quiet Quitting–এর রূপক, কারও কাছে আবার অতিরিক্ত চাপ ও দায়িত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। এইভাবে একটি প্রাণীর আচরণ মানুষের আবেগের ক্যানভাসে রূপ নেয়।
আধুনিক মনস্তত্ত্ব (Penguin)
নিহিলিজম দর্শনে জীবনের কোনও অন্তর্নিহিত অর্থ নেই এই ধারণাই মুখ্য। পেঙ্গুইনের এই আপাত উদ্দেশ্যহীন, আত্মবিধ্বংসী যাত্রা অনেকের কাছেই সেই দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়। আধুনিক মানুষ, যিনি প্রতিনিয়ত ক্লান্ত, বিভ্রান্ত ও দিশাহীন এই পেঙ্গুইনের মধ্যে যেন নিজেরই ছায়া দেখতে পান। ফলে ভিডিওটি হয়ে ওঠে কেবল একটি দৃশ্য নয়, বরং একটি মানসিক প্রতীক।

আরও পড়ুন:Nandigram: রানিচক দখল তৃণমূলের, নন্দীগ্রামে পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্ক!
ফেরানো সম্ভব ছিল না কেন
তবে বিজ্ঞানীরা এই দার্শনিক ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, পেঙ্গুইনরা মানুষের মতো অস্তিত্ব সংকট বা দর্শনচিন্তায় ভোগে না। ডকুমেন্টারিতে উপস্থিত পেঙ্গুইন গবেষক ডেভিড আইনলি এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থতা, আঘাত, স্নায়বিক বা শারীরিক বিভ্রান্তি এই কারণগুলির জন্যই কোনও কোনও পেঙ্গুইন দিশাহীন হয়ে পড়ে এবং স্থলভাগের ভেতরের দিকে হাঁটতে শুরু করে। এই যাত্রার পরিণতি প্রায় নিশ্চিত মৃত্যু, খাদ্যের অভাব, চরম ঠান্ডা ও শারীরিক ক্লান্তিতে।বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এমনকি যদি ওই পেঙ্গুইনটিকে জোর করে ফিরিয়ে আনা হতো, তাহলেও সে সম্ভবত আবার একই পথে হাঁটা শুরু করত। কারণ এটি ছিল কোনও সচেতন সিদ্ধান্ত নয়, বরং শারীরিক অক্ষমতার ফল। এই বাস্তবতা যতটা নির্মম, ততটাই নিরাবেগ।



