Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে (War)। ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিংহ গর্জন’ নামে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলার জেরে মৃত্যুর খবর মিলেছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–র। তবে এই সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের পাশাপাশি একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক মাশুল কতটা ভারী হতে চলেছে। মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর মাত্র প্রথম ১০০ ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে আমেরিকাকে।

প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় (War)
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, যুদ্ধের শুরুতেই ব্যয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এই সময়েই সবচেয়ে উন্নত ও ব্যয়বহুল অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সেই কারণেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হাজার হাজার অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার (War)
CSIS-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ২০০০-এরও বেশি ধরনের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এত বিপুল অস্ত্র ব্যবহার হওয়ার ফলে সেগুলি পুনরায় মজুত করতেও বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনের জন্য আমেরিকার অতিরিক্ত প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ব্যয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রতিরক্ষা খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে।

প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিপুল খরচ (War)
যুদ্ধ চলাকালীন সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। বিশেষ করে বিখ্যাত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহারের জন্যই প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থার কাজ হলো শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র বা আকাশপথে আসা হামলাকে মাঝপথে ধ্বংস করা। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর খরচও অত্যন্ত বেশি।
আকাশপথে হামলার খরচ (War)
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আকাশপথে হামলা চালানোর জন্য প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা, জ্বালানি, অস্ত্রসজ্জা এবং সামরিক লজিস্টিক সব মিলিয়ে এই খরচ দ্রুত বেড়ে যায়।
প্রতিরক্ষা বাজেটে চাপ বাড়ছে (War)
CSIS-এর হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার জন্য আলাদা তহবিলের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নতুন করে বাজেট বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে আমেরিকার প্রশাসনকে অতিরিক্ত অর্থের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস -এর অনুমোদন নিতে হবে। বর্তমানে আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসনের পক্ষে নতুন যুদ্ধ বাজেট অনুমোদন করানো সহজ নাও হতে পারে।



