Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেবীপক্ষ শুরু হতেই আকাশে যেন (Weather Update) রাগী মুখ নিয়েই আবির্ভাব ঘটেছে বর্ষার। একদিকে শহরের অলিতে-গলিতে শঙ্খ-ধ্বনি আর ঢাকের বোল, অন্যদিকে ঘন কালো মেঘে ঢাকা আকাশ-এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে এবার পুজোর মেজাজ যেন কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত।
আনন্দের জায়গা দখল করেছে শোক (Weather Update)
সোমবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে (Weather Update) শহরবাসী। জলমগ্ন রাস্তাঘাট, বন্ধ হয়ে যাওয়া যান চলাচল, ঘর থেকে বেরোনোই যেন এক যুদ্ধ। তার চেয়েও বড় দুঃসংবাদ-বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু। দেবীপক্ষের সূচনালগ্নেই এতগুলো প্রাণ চলে যাওয়ায় অনেক পরিবারে আনন্দের জায়গা দখল করেছে শোক।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি (Weather Update)
এর মধ্যেই আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস আরও শঙ্কা (Weather Update) বাড়াচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী দিনগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার, অর্থাৎ পঞ্চমীর দিন, দক্ষিণবঙ্গের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি সম্ভাব্য।
কলকাতা শহরও বাদ যাচ্ছে না
কলকাতা শহরও বাদ যাচ্ছে না। বিশেষ করে শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাসে চিন্তা বেড়েছে পুজোর আয়োজকদের। বহু জায়গায় প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। তবে সেই কাজেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই অনিয়মিত কিন্তু প্রাবল্যপূর্ণ বৃষ্টি। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-এই জেলাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবারেও এসব অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়ার সঙ্গেও বজ্রপাত হতে পারে।
ভয়াবহ বৃষ্টির সাক্ষী
তবে এর আগে শহর কতটা ভয়াবহ বৃষ্টির সাক্ষী থেকেছে, তার নজিরও আছে। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৩৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল কলকাতায়, যার ফল ভয়াবহ বন্যা। ১৯৮৬ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর হয়েছিল ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি, আর ২০০৭ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল ১৭৪.৪ মিলিমিটার। এ বছর সোমবার রাতে বৃষ্টি হয়েছে ২৫১.৪ মিলিমিটার, যা সেই অতীতের স্মৃতিকেও টেনে এনে দিয়েছে চোখে জল।

আরও পড়ুন: Metro Time in Durga Puja: পুজোয় সারারাত চলবে মেট্রো, একনজরে জানুন টাইম-টেবিল
তবুও উৎসবপ্রেমী বাঙালির মন মানে না। বৃষ্টি, জলজট, দুর্ঘটনার আশঙ্কা-সবকিছুকে পাশে সরিয়ে রেখেই মঙ্গলের সন্ধ্যায় বহু মানুষ কোমরজল ঠেলে পৌঁছে গিয়েছেন প্যান্ডেলে। তাদের একটাই কথা, “পুজো কি আর বারবার আসে?” তাই প্রশ্নটা থেকেই যায়-এবার কি বৃষ্টি হয়ে উঠবে সেই ‘অসুর’, যে পুজোর আনন্দে জল ঢেলে দেবে? নাকি প্রতিকূলতাকে জয় করে মায়ের আগমন ঘিরে শহর আবারও জ্বলে উঠবে আলোর রোশনাইয়ে? উত্তর দেবে আগামী ক’দিনের আকাশ।


