Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক সংঘাতের সীমা ছাড়িয়ে এক গভীর মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে (West Asia conflict)। ইরান ও আমেরিকা-র মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা যে ভয়াবহ চিত্র তৈরি করছে, তার সবচেয়ে করুণ শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ বিশেষত প্রবাসী ভারতীয়রা। সাম্প্রতিক কুয়েত হামলায় আরও এক ভারতীয়ের মৃত্যু সেই দুঃসংবাদকেই আরও গভীর করেছে।

যুদ্ধের আগুনে প্রবাসী ভারতীয়দের অসহায়তা (West Asia conflict)
মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কর্মসূত্রে বসবাস করেন। উন্নত জীবনের আশায় তাঁরা পাড়ি দেন এই দেশগুলিতে, কিন্তু আজ সেই স্বপ্নের জায়গাই পরিণত হয়েছে আতঙ্কের কেন্দ্রে। কুয়েত-এ বিদ্যুৎ ও জল পরিশোধন কেন্দ্রে ইরানের হামলায় এক ভারতীয় কর্মীর মৃত্যু এই বাস্তবতাকে আরও নির্মমভাবে সামনে এনেছে। এই মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ওমান-সহ একাধিক দেশে ভারতীয়দের প্রাণহানির খবর এসেছে। বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ভারতীয় নাবিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ যা এক গভীর উদ্বেগের কারণ।
কৌশলগত হামলা ও পরিকাঠামোর ধ্বংস (West Asia conflict)
এই সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জল পরিশোধনাগার, তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র এই সমস্ত জায়গায় হামলা চালানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও জল পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা শুধু একটি দেশের পরিষেবা ব্যবস্থাকেই বিপর্যস্ত করেনি, বরং সেখানে কর্মরত বহু বিদেশি শ্রমিকের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। জল ও বিদ্যুৎ এই দুটি মৌলিক পরিষেবার উপর আঘাত মানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া। এই ধরনের হামলা ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং প্রতিপক্ষ দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনকে ধ্বংস করার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংঘাতের সূচনা ও বিস্তার (West Asia conflict)
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-র তরফে ইরানের মাটিতে হামলার পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। তার পাল্টা হিসেবে ইরান একের পর এক আক্রমণ চালাতে শুরু করে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। এই সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। প্রতিদিনই বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
আন্তর্জাতিক প্রভাব (West Asia conflict)
এই যুদ্ধ শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নয় সমুদ্রপথেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্য আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়া। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে ঘাটতি সব কিছুই বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: Sandy Saha: কী হয়েছিল সেই ৪০ মিনিটে… স্যান্ডির বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়
খার্গ দ্বীপকে ঘিরে কৌশল
বর্তমানে খবর মিলছে যে আমেরিকা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কারণ খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এর উপর নিয়ন্ত্রণ মানে ইরানের উপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা যা আরও বড় সামরিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।



