Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টলিউডের আকাশে যেন আচমকাই নেমে এল গভীর অন্ধকার (Writam Ghosal)। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাধক বামাখ্যাপা’-র স্রষ্টা-লেখক ঋতম ঘোষালের আকস্মিক প্রয়াণ শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়, বাংলা টেলিভিশন জগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়েরও যেন হঠাৎ সমাপ্তি। তাঁর চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা টলিউডে।

এক অপ্রস্তুত সকাল (Writam Ghosal)
সকালের শুরুতেই আসে সেই দুঃসংবাদ ঋতম ঘোষাল আর নেই। বন্ধু শিবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশাল মিডিয়া পোস্টেই প্রথম নিশ্চিত হয় এই খবর। জানা যায়, হঠাৎ করেই পারপিচুয়াল কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-এর শিকার হন তিনি। দ্রুত তাঁকে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই আকস্মিক মৃত্যু যেন সকলকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। কোনও পূর্বাভাস ছিল না, ছিল না প্রস্তুতি ফলে এই শোক আরও গভীর, আরও অসহনীয়।
সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত (Writam Ghosal)
ঋতম ঘোষাল শুধু একজন লেখক ছিলেন না তিনি ছিলেন এক স্বতন্ত্র ধারার নির্মাতা। বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে ‘সাধক বামাখ্যাপা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তা এক কথায় অনন্য। ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ছিল অসামান্য। তাঁর লেখনীতে যেমন ছিল গভীর গবেষণা, তেমনি ছিল আবেগ, নাটকীয়তা এবং দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। বর্তমান সময়ে যখন ধারাবাহিকের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন ঋতমের কাজ ছিল এক আলাদা মানদণ্ড।

বন্ধুর চোখে ঋতম (Writam Ghosal)
শিবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগঘন পোস্টে উঠে এসেছে ঋতমের এক ভিন্ন ছবি, একজন সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও যিনি ছিলেন ভীষণ সহজ-সরল, বন্ধুবৎসল এবং জীবনপ্রেমী। বড় বনেদি পরিবারের সন্তান হয়েও জীবনের লড়াই থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি। বরং সংগ্রামই তাঁকে তৈরি করেছে। তিনি ভালোবাসতেন জীবনের রঙিন দিক নতুন ঘড়ি, পোশাক, সুগন্ধী, ভ্রমণ, সুস্বাদু খাবার, সবকিছুর মধ্যেই খুঁজে নিতেন আনন্দ। বন্ধুমহলে তাঁর গাড়ি বদলানো নিয়ে মজাও চলত নিয়মিত। কিন্তু এই বাহ্যিক বিলাসিতার আড়ালেই ছিল এক গভীর সংবেদনশীল মন যার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর লেখায়।
টলিউডে শোকের ছায়া
ঋতম ঘোষালের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউডের তারকারা। অভিনেতা ঋষি মুখোপাধ্যায়, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, সোনালী চৌধুরী, অনিন্দিতা রায়চৌধুরী, সোহান বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপাঞ্জনা মিত্র, চৈতি ঘোষাল প্রত্যেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের সকলের কথাতেই একটি বিষয় স্পষ্ট ঋতম শুধু একজন সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন প্রিয় বন্ধু, অনুপ্রেরণা এবং এক অসাধারণ প্রতিভা।

আরও পড়ুন: Pakistan: কাবুলে হাসপাতালে হামলা, ৪০০ মৃত্যু
অপূর্ণ থেকে গেল অনেক স্বপ্ন
শিবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই ফুটে উঠেছে সেই আক্ষেপ, “ওর এখনো অনেক দেওয়ার ছিল।” সত্যিই, ঋতম ঘোষালের কলম থেমে গেল ঠিক সেই সময়, যখন তাঁর অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা আরও বহু মূল্যবান কাজ উপহার দিতে পারত দর্শকদের। তাঁর শেষ লেখা, শেষ স্বপ্ন সবই যেন এখন অপূর্ণতার কুয়াশায় ঢাকা পড়ে রইল।



