Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০১৬ সালের কলকাতা নিত্যদিনের ব্যস্ততা, যানজট, মানুষের ভিড়ের আড়ালে তখন নিঃশব্দে বড়সড় নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (Khagragar Case)। সেই ছক ভেস্তে দিয়ে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করে পাঁচ জঙ্গিকে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে অবশেষে কলকাতার নগর দায়রা আদালত পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এক অভিযুক্তকে খালাসও করা হয়েছে। ঘটনাটি শুধু আইনি বিচারের দিক থেকে নয়, শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কলকাতার বুকে নাশকতার পরিকল্পনা (Khagragar Case)
২০১৬ সালে গোপন সূত্রে খবর পায় এসটিএফ যে কলকাতায় বিস্ফোরক নিয়ে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা চলছে। তদন্তে জানা যায়, একাধিক এলাকায় রেকি চালানো হয়েছে, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মানচিত্রও সংগ্রহ করেছে জেএমবি মডিউল।
অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে, বিস্ফোরক সামগ্রী, একাধিক জাল পরিচয়পত্র, কলকাতার মানচিত্র, সন্দেহজনক নথিপত্র সবকিছু মিলিয়ে পরিষ্কার হয়, শহরকে টার্গেট করে পরিকল্পনা করছিল জেএমবি।
তিন জায়গায় হানা (Khagragar Case)
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ অভিযান চালায় তিন জায়গায়, অসম, বনগাঁ, বসিরহাট সেই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচজনকে। ধৃতরা বারবার পরিচয় গোপন করতে জাল নথি ব্যবহার করছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা (Khagragar Case)
এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজন–ই বর্ধমানের কুখ্যাত খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি।
দোষী সাব্যস্তরা হলেন, সাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, জাহিরুল ইসলাম, মহম্মদ রুবেল, মৌলানা ইউসুফ শেখ এই চারজন খাগড়াগড় কাণ্ডে জড়িত থাকায় তাদের আগের জঙ্গি যোগ আবারও সামনে আসে এই মামলায়। এক অভিযুক্ত আব্দুল কলিম–কে বেকসুর খালাস করেছে আদালত। যদিও তিনি-ও খাগড়াগড় কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত।
আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’
দোষী সাব্যস্ত পাঁচজনের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তাদের বক্তব্য, ‘তদন্ত ভুল পথে চালানো হয়েছে’, ‘জাল নথি বা বিস্ফোরকের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা নেই’ তবে সরকারি আইনজীবী স্পষ্ট বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রমাণ ও সাক্ষ্য যথেষ্টভাবে তাঁদের অপরাধ প্রমাণ করে। মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত করার রায় ঘোষণা হয়েছে। আজ, বুধবারই অভিযুক্ত পাঁচজনের সাজা ঘোষণা করতে পারে আদালত। রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের কঠোর সাজা হওয়ারই সম্ভাবনা।



