Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয় (Home Minister)। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব। তবে কলকাতায় মঙ্গলবারের সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে ভাষায় এবং যে কৌশলে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম ধরে ধরে তাঁদের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তুলেছেন, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই প্রথম এত স্পষ্টভাবে ব্যক্তিনির্ভর উদাহরণ দিয়ে রাজ্য সরকারকে ‘গলা পর্যন্ত দুর্নীতিতে ডুবে থাকা সরকার’ বলে আখ্যা দিলেন তিনি। অমিত শাহের বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে একটিই সুর দুর্নীতি, ভয় এবং কুশাসনের ত্রিভূজ। তাঁর দাবি, এই তিনের জাঁতাকলেই নাকি আজ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ জর্জরিত।

রাজনৈতিক বার্তার স্পষ্টতা (Home Minister)
সাংবাদিক সম্মেলনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মানিক ভট্টাচার্য এই নামগুলি একে একে উচ্চারণ করে অমিত শাহ কার্যত বোঝাতে চেয়েছেন, দুর্নীতির অভিযোগ কোনও বিমূর্ত বিষয় নয়, বরং তা দৃশ্যমান এবং বিচারাধীন। তাঁর বক্তব্য, মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়া বা একাধিক জনপ্রতিনিধির জেলে যাওয়া এসবই প্রমাণ করে রাজ্য সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত চরিত্র। রোজভ্যালি কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে মনরেগা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি এই সব ইস্যু টেনে এনে তিনি দাবি করেন, এত দুর্নীতির পরে আর অস্বীকারের জায়গা নেই। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য একটাই দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সরকারের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো।
ভোটের অঙ্কে ক্ষমতার স্বপ্ন (Home Minister)
অমিত শাহের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তাঁর দেওয়া ভোটের পরিসংখ্যান। ২০১৪ সালে বিজেপির ১৭ শতাংশ ভোট পাওয়া থেকে শুরু করে ২০১৯ সালে ৪১ শতাংশ ভোট এবং ২০২১ সালের বিধানসভায় ৩৮ শতাংশ ভোট এই ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর মতে, এই গ্রাফই প্রমাণ করছে যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকার গড়বে, তাও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। এই যুক্তির মধ্য দিয়ে শাহ একদিকে যেমন বিজেপি কর্মীদের মনোবল চাঙা করতে চেয়েছেন, তেমনই সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা দিয়েছেন রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন অনিবার্য।

নারী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিতর্ক (Home Minister)
নারী নিরাপত্তা নিয়ে অমিত শাহের মন্তব্য আরও এক দফা বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ‘মেয়েদের রাত সাতটার পরে বেরতে নিষেধ’—এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি রাজ্য সরকারকে মধ্যযুগীয় মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর দাবি, একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজ্যে মেয়েদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার খর্ব করা যায় না। এই মন্তব্যের পাল্টা জবাবে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, বাংলার মেয়েরা দুর্গাপুজো, ক্রিসমাস বা নববর্ষে নির্বিঘ্নেই রাস্তায় বেরোন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ কুলদীপ সেনগার থেকে শুরু করে মহিলা ক্রীড়াবিদদের হেনস্থার অভিযোগ যা দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন।
আরও পড়ুন: Winter Hunger: শীত এলেই খিদে কেন বেড়ে যায়?
উন্নয়নের পাল্টা পরিসংখ্যান
দুর্নীতির অভিযোগের মোকাবিলায় তৃণমূল কংগ্রেস যে শুধু রাজনৈতিক ভাষায় পাল্টা দিয়েছে, তা নয় পরিসংখ্যানের মাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করেছে (Home Minister)। শশী পাঁজার দাবি অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১৩.৮ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। সিমেন্ট, রং, রেলওয়ে ওয়াগন নির্মাণ-সহ একাধিক শিল্পে লগ্নি বেড়েছে। পাশাপাশি, MSME ক্ষেত্রে গোটা দেশের মধ্যে বাংলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূল বোঝাতে চেয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের আড়ালে রাজ্যের উন্নয়ন ও শিল্পায়নের বাস্তব চিত্রকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।



