Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল (Air Ambulance crash)। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াই চলছিল। কিন্তু সেই জীবনরক্ষাকারী যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হল মৃত্যুযাত্রায়। ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলায় গভীর জঙ্গলে ভেঙে পড়ল একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। প্রাণ হারালেন দুই ক্যাপ্টেন-সহ মোট সাত জন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।

উড়ান শুরু, তারপর হঠাৎ নিস্তব্ধতা (Air Ambulance crash)
রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ১০টার মধ্যে দিল্লিতে অবতরণের কথা ছিল। বিমানে ছিলেন গুরুতর অসুস্থ এক রোগী, দুই ক্যাপ্টেন, একজন চিকিৎসক এবং আরও তিন জন মোট সাত জন। কিন্তু উড়ানের মাত্র কুড়ি মিনিট পরই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হঠাৎ করে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় মেডিক্যাল চ্যাটার্ড বিমানটি। কিছু সময় পর খবর আসে চাতরা জেলার সীমারিয়া অঞ্চলের ঘন জঙ্গলে ভেঙে পড়েছে বিমানটি।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু সকলের (Air Ambulance crash)
চাতরার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি জানান, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত জনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন, ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সবরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার (রোগী), চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্তা, সচিন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী, ধুরু কুমার, প্রত্যেকেই এক একটি পরিবারের আশ্রয়, এক একটি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁদের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও পরিজনদের জীবনে।

আবহাওয়াই কি কাল হল? (Air Ambulance crash)
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাত হচ্ছিল। সন্ধ্যা থেকেই আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত খারাপ। একটি তীব্র শব্দ শোনার পর তাঁরা বুঝতে পারেন, কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে খারাপ আবহাওয়াই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন। কীভাবে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হল, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, নাকি শুধুই প্রকৃতির রুদ্ররূপ সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে।
বাঁচাতে গিয়ে হারাল আরও সাত জীবন (Air Ambulance crash)
দুর্ঘটনার অন্যতম বেদনাদায়ক দিক হল, এই উড়ানের মূল উদ্দেশ্য ছিল এক গুরুতর দগ্ধ রোগীর প্রাণ বাঁচানো। রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের সিইও অনন্ত সিনহা জানিয়েছেন, লাতেহারের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সি সঞ্জয় কুমারের শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই উদ্দেশ্যেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জীবন বাঁচানোর এই মরিয়া প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত সাতটি জীবনের অবসান ঘটাল যা নিঃসন্দেহে এক নির্মম পরিহাস।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া (Air Ambulance crash)
দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, দ্রুত তদন্ত শুরু করা হবে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
পরিষেবার নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন উদ্বেগ
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার নিরাপত্তা ও আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি নিয়ে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় উড়ান চালানোর সিদ্ধান্ত কতটা নিরাপদ, তা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এই ঘটনা। জীবন বাঁচানোর প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো যতই উন্নত হোক, প্রকৃতির সামনে মানুষ এখনও সীমাবদ্ধ এই দুর্ঘটনা যেন সেই নির্মম সত্যই আবার স্মরণ করিয়ে দিল।



