Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মুর সিধরা এলাকায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র সদর (8X Scope Recovery Jammu) দপ্তরের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেলের স্কোপ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই স্কোপটি চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই জম্মু শহর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
অ্যাসল্ট রাইফেলের স্কোপ (8X Scope Recovery Jammu)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিধরা এলাকার আসররাবাদে (8X Scope Recovery Jammu) টহল দেওয়ার সময় স্থানীয় পুলিশ একটি ছ’ বছর বয়সি শিশুকে একটি অদ্ভুত বস্তু নিয়ে খেলতে দেখতে পায়। প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও, বস্তুটির আকার ও গঠন দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। শিশুটির কাছে যেতেই অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকরা চমকে ওঠেন। কারণ, শিশুটি খেলনা ভেবে যে জিনিসটি নিয়ে খেলছিল, সেটি আসলে একটি অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেলের স্কোপ।
সামরিক সরঞ্জাম (8X Scope Recovery Jammu)
এই ধরনের স্কোপ সাধারণত রাইফেলের উপরে লাগানো (8X Scope Recovery Jammu) হয় এবং বহু দূর থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে জঙ্গি হামলা বা স্নাইপার অ্যাটাকের ক্ষেত্রে এই ধরনের যন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মারাত্মক।শিশুটির পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, বাড়ির কাছেই একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে শিশুটি ওই স্কোপটি কুড়িয়ে পেয়েছিল। শিশুটি যে কতটা বিপজ্জনক একটি সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে খেলছিল, তা বুঝতে পেরেই পুলিশ দ্রুত স্কোপটি বাজেয়াপ্ত করে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়।

তল্লাশি অভিযান শুরু
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জম্মু পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এনআইএ সদর দপ্তরের এত কাছাকাছি এলাকা থেকে এমন সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপরই গোটা সিধরা এলাকা জুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। আশপাশের আবর্জনার স্তূপ, পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি এবং সন্দেহজনক জায়গাগুলিতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সাম্বা জেলা থেকে ২৪ বছর বয়সি এক যুবককে আটক করেছে। পাশাপাশি সাম্বা জেলা থেকেই তানভীর আহমদ নামে আরও এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, তানভীর আহমদের মোবাইল ফোনে একটি পাকিস্তানি নম্বর পাওয়া গিয়েছে, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।জানা গিয়েছে, তানভীর আহমদ আদতে কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি সাম্বা জেলাতেই বসবাস করছিলেন। তাঁর সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠন বা সীমান্ত পারের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

আরও পড়ুন: Lagnajita Chakrabarty: ‘জাগো মা’ গাওয়ায় আপত্তি! শিল্পীর স্বাধীনতায় আঘাত
আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ
জম্মু গ্রামীণ পুলিশের এক মুখপাত্র এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “একটি রাইফেলের স্কোপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।”এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে—এই স্কোপটি কি কোনও বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনার অংশ ছিল, নাকি এটি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এলাকায় এনে ফেলা হয়েছিল। এনআইএ সদর দপ্তরের কাছাকাছি এমন সামরিক সরঞ্জাম পাওয়া যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।


