Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চোখের চিকিৎসা করাতে বিদেশে যাওয়ার আগে বড় স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল (Abhishek Banerjee)। সেই নির্দেশ মতো আজকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করে দিল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সোমবার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আদালতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের কাছে রিপোর্ট দিয়ে জানিয়ে দিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেওয়াইসি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এবং তাঁর ফ্রিজ থাকা ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। এখন ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।
শর্তসাপেক্ষে অনুমতি (Abhishek Banerjee)
বিদেশে চোখের চিকিৎসা করাতে যাওয়ার শর্তসাপেক্ষে অনুমতি আগেই দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। ফলে বিদেশে যাওয়ার এবং চিকিৎসা করানোর অর্থ তিনি অ্যাকাউন্ট থেকে তুলতে পারছেন না বলে অভিযোগ তুলে গত ১৭ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে সেই মামলার শুনানি ছিল। এদিন শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের উচিত আগে তার গ্রাহককে জানানো। সে তিনি যেই হন না কেন।’ তখন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এসএমএস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করেনি।
নিষ্পত্তি দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও (Abhishek Banerjee)
তারপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য্য মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘এইভাবে আমার মক্কেলকে হেনস্থা করার জন্য ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে একটা টোকেন কস্ট চাপানো হোক।’ যদিও সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি আদালত। এবং মামলার নিষ্পত্তি করে দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
ইডি-এর তদন্তের কারণে (Abhishek Banerjee)
গত বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলার শুনানিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেন, কী কারণে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে? ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ প্রথমে বলে, কেওয়াইসি না থাকার কারণে। আবার পরে তারা দাবি করে, ইডি-এর তদন্তের কারণে।
চরম অসন্তোষ প্রকাশ (Abhishek Banerjee)
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দু’বার দু’রকম যুক্তি দেওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ব্যাঙ্কের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতি বলেন, ‘অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না। না হলে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে ডাকতে বাধ্য হব। এখন অনলাইনেও কেওয়াইসি করা যায়। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখতে চাইছে?’

নোটিস না অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Abhishek Banerjee)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য্য আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’টি ক্রেডিট কার্ড আছে।২০১৭ থেকে এই অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অথচ হঠাৎ নোটিস না দিয়েই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। কেওয়াইসি করতে হবে বলে জানিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। অথচ, কেওয়াইসি-এর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে। তা শুনে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখন তো অনলাইনে কেওয়াইসি করা যায়। তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন কেওয়াইসি-এর জন্য ডেকে পাঠালেন? আপনার ব্যাঙ্ক একটু বেশিই আগ্রহী ওঁকে দেখার জন্য। মনে হচ্ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখতে চাইছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ! কবে সমাধান করবেন? যা নথি লাগে এখানেই দিয়ে দিন।’
কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছিল (Abhishek Banerjee)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ যে চিঠি দিয়েছিল, সেই চিঠির ভাষা ও বয়ান নিয়েও চরম সমালোচনা করেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এইভাবে কোনও গ্রাহককে চিঠি পাঠানো যায় না। তখন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, ব্যাঙ্কে কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা হয়েছে। সেই জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেওয়াইসি-এর জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আভ্যন্তরীণ সমস্যাটা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয় বলে আদালতে জানায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তার জবাবে বিচারপতি বলেন, ‘সে যেকোনো সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু গ্ৰাহককে না জানিয়ে এভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারেন?’
অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা ইডি (Abhishek Banerjee)
এরপরই ব্যাঙ্কের আইনজীবী অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা ইডি-এর মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। আর তা শুনেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তিনি বলেন, ‘নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না। না হলে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে ডেকে আনতে বাধ্য হব। এখন অনলাইনেও কেওয়াইসি করা যায়।’

আরও পড়ুন: Perfume: গন্ধকে সত্যিই বন্দি করা যায়! ‘পারফিউম’- সিনেমায় রয়েছে সেই রহস্য
বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন
এরপরই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই দিন তথা বৃহস্পতিবারই ব্যাঙ্কের কোন একজন আধিকারিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাবেন। এবং আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং কেওয়াইসি ফর্ম-সহ কেওয়াইসি-এর জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় নথি ও তথ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই ব্যাঙ্ক আধিকারিকের হাতে তুলে দিতে হবে। এদিন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আদালতকে রিপোর্ট দিয়ে জানিয়ে দিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে। এবং তাঁর অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। তারপরই মামলার নিষ্পত্তি করে দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।



