Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক ও আবছা ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক নতুন তথ্যে উপনীত হয়েছেন। গত সপ্তাহের তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী বন্যা কেবল একটি হিমবাহ ধসের কারণে ঘটেনি। আসল বিপর্যয়টি ঘটেছিল নেপালের ৭,২৩৪ মিটার উঁচু লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তরাংশে(Nepal Flash Flood)।
কীভাবে ঘটল এই দুর্যোগ? (Nepal Flash Flood)
বিশাল পাহাড় ধস: প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ভেঙে নিচে পড়ে।
হিমবাহ স্লাইড: পাহাড়ি পাথরের সাথে সাথে সেটির ওপর থাকা পুরো হিমবাহের অংশটি ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপের তান্ডব: বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই ধসে প্রায় ২০ কোটি ঘনমিটার পাথর ও বরফের মিশ্রণ তৈরি হয়েছিল। যা পরবর্তীতে লেন্দে খোলা নদী এবং ভোট কোশী নদীর মাধ্যমে বয়ে গিয়ে প্রলয়ঙ্করী বন্যার সৃষ্টি করে।

কম্পন তৈরি: প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প ভাবা হলেও মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, পাহাড়ের ধস ও ধ্বংসস্তূপ আছড়ে পড়ার ফলেই ৫.২ মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
তক্ষশীলা ইনস্টিটিউটের জিওস্পেশিয়াল প্রোগ্রামের প্রধান ওয়াই নিথিয়ানন্দমের মতে, পাথরের তলদেশ বরাবর পুরো হিমবাহটি কেটে নিচে পড়ে গেছে। অর্থাৎ, হিমবাহের কারণে নয়, বরং পাহাড় ভেঙে পড়ার ফলেই বরফসহ নিচে নেমে এসেছে।
সীমান্ত পার ও নতুন হ্রদ সৃষ্টি (Nepal Flash Flood)
ধসটি নেপালের সীমানার মধ্যে উৎপত্তি হলেও এর প্রভাব সীমান্তবর্তী তিব্বতেও মারাত্মকভাবে পড়ে। চীনের জিরোং সীমান্ত এলাকাটি বন্যায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, পাহাড় ধসের পর ওই এলাকায় দু’টি কৃত্রিম বা বাঁধ হ্রদের (Barrier lakes) সৃষ্টি হয়েছে। মহাকাশ বিশ্লেষণকারী সংস্থা সুহোরা টেকনোলজিসের মতে, এর মধ্যে একটির আকার প্রায় ২০ হেক্টর। চীনের কর্তৃপক্ষ এসব হ্রদ ভেঙে ফের বন্যার আশঙ্কায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: Derek O Brien: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন
তবে এই পাহাড় ধসের মূল কারণ কী তা এখনও পরিষ্কার নয়(Nepal Flash Flood)। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ নদীর বাঁধ নির্মাণকে দায়ী করলেও নিথিয়ানন্দম স্পষ্ট করেছেন, লাংটাং লিরুংয়ের দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে বড় ধরণের কোনো নির্মাণকাজ ছিল না। বর্তমানে গবেষকরা বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।



