Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা দপ্তরের পরিবর্তে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে আনার সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Mostafijur Rahaman)। মুস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্যটি আড়ালে থেকে যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিকে সামনে আনা হচ্ছে।
ইতিহাস ভুলে গেলে বিতর্কই বা কেন? (Mostafijur Rahaman)
আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস প্রায় আড়াই শতাব্দী পুরনো। ১৭৮০ সালে ওয়ারেন হেস্টিংসের উদ্যোগে এর প্রতিষ্ঠা হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রয়োজনের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাটির একটি যোগ ছিল। পরবর্তীকালে সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চরিত্র ও পরিসর বদলেছে। ২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে আলিয়া মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
মাদ্রাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—পরিবর্তনের পথ (Mostafijur Rahaman)
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে একটি স্টেট-এইডেড বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে সরকারের সঙ্গে এর প্রশাসনিক ও আর্থিক সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। প্রশ্ন উঠছে, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে আনা হলে শিক্ষার মান, পরিকাঠামো ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাস্তব উন্নতি কতটা হবে? নাকি সিদ্ধান্তটি মূলত রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যেই আটকে যাবে?

ধর্মীয় পরিচয়ই কি মুখ্য হয়ে উঠছে? (Mostafijur Rahaman)
মুস্তাফিজুরের অভিযোগ, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যেন মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিকভাবে ‘জব্দ’ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন আরও বাড়াতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের বদলে ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে আনা হলে শিক্ষার মূল প্রশ্নটাই পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: ‘১১ হাত’-এর বিতর্কে শেষমেশ ক্ষমাই চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী
আসল ইস্যু কি তাহলে আড়ালেই?
বক্তব্যের মূল সুর হল—চাকরি, শিক্ষা, পরিকাঠামো, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মতো মৌলিক প্রশ্নগুলির পরিবর্তে ধর্মীয় মেরুকরণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের রাজনীতি নিয়ে এমনই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, মানুষের দৃষ্টি মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি বাংলাতেও জায়গা করে নিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বিতর্কের মূল্যায়ন হওয়া উচিত শিক্ষার মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ—ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।



