Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিনেমা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে বহুরূপীদের অনেক সময় চোর-ডাকাত কিংবা সন্দেহজনক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয় (Dr. Aditya Mukhopadhyay)। কিন্তু এই চিত্র যে সম্পূর্ণ সত্য নয়, সেটিই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক ড: আদিত্য মুখোপাধ্যায়। কে টিভি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সব বহুরূপীকে একভাবে দেখার প্রবণতা তাঁদের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও সামাজিক ভূমিকার প্রতি অবিচার।

একসময় বহুরূপীরাই ছিলেন সমাজের লোকশিক্ষক (Dr. Aditya Mukhopadhyay)
ড: আদিত্য মুখোপাধ্যায়ের কথায়, একসময় বহুরূপীরা ছিলেন সমাজের ‘লোকশিক্ষক’। মুখে রং মেখে সকাল থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁরা মানুষের সামনে বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তুলতেন। কখনও রাবণ, মহীরাবণ, নরকঙ্কাল, হনুমান, শিব বা কালী; আবার কখনও বাঘ, দইওয়ালা কিংবা হঠাৎবাবুর মতো চরিত্রে সেজে লোকনাট্য, কবিতা ও ছড়ার মাধ্যমে মানুষের মনোরঞ্জনের পাশাপাশি নানা বার্তাও পৌঁছে দিতেন।

বিষয়পুর ও শীতলগ্রামে আজও বেঁচে ঐতিহ্য (Dr. Aditya Mukhopadhyay)
সময় বদলালেও বীরভূমের বিষয়পুর ও শীতলগ্রামে বহুরূপীর সেই প্রাচীন ঐতিহ্য এখনও টিকে রয়েছে। বক্তার মতে, এখানকার ব্যাধ সম্প্রদায়ের বহু মানুষের কাছে বহুরূপী সাজাই জীবিকার প্রধান অবলম্বন। সকাল থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁরা যে সামান্য অর্থ বা চাল পান, তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়।
মঞ্চের বহুরূপী আর জীবিকার বহুরূপী এক নয় (Dr. Aditya Mukhopadhyay)
আবার এমন বহুরূপীও রয়েছেন, যাঁরা মঞ্চে অভিনয় করেন কিংবা বিদেশে গিয়ে বহুরূপী শিল্প পরিবেশন করেন। সুবল দাস তাঁদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত নাম। তাঁদের জীবিকা শুধুমাত্র বহুরূপী প্রদর্শনের উপর নির্ভরশীল নয়। ফলে বহুরূপীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে দুটি পৃথক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: ‘১১ হাত’-এর বিতর্কে শেষমেশ ক্ষমাই চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী
গবেষণায় উঠে আসছে হারিয়ে যেতে বসা লোকশিল্পের ইতিহাস
সাহিত্যের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো এবং শতাধিক বইয়ের লেখক ড: আদিত্য মুখোপাধ্যায় বহুরূপী নিয়ে দুটি বই লিখেছেন, যা পাঠকমহলে জনপ্রিয় হয়েছে। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে বীরভূমে এই শিল্পের প্রায় দেড়শো বছরের ইতিহাস। তাই বহুরূপীকে কেবল বিনোদন নয়, বাংলার লোকসংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।



