Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Sujan Chakraborty)। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করে স্টল করার বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, বিষয়টি আদতে উৎসবের নাম নিয়ে নয়, বরং বই এবং মুক্তচিন্তার সঙ্গে যুক্ত।
‘মুখ্যমন্ত্রী বইকে ভয় পান’, তীব্র আক্রমণ সুজনের (Sujan Chakraborty)
সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে তাঁর ‘করুণা’ হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বইকে ভয় পান এবং মুক্ত চিন্তাকেও ভয় পাচ্ছেন। সুজনের কথায়, শারদোৎসবের সঙ্গে বইয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাই কোনওভাবেই বইয়ের স্টল আটকানো যাবে না বলেও চ্যালেঞ্জ ছোড়েন তিনি। তিনি দাবি করেন, তাঁদের পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্রে ‘শারদোৎসব’ বা ‘দুর্গাপুজো’—কোনও নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বই বিক্রি ও মানুষের হাতে বই পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য (Sujan Chakraborty)।
রবীন্দ্রনাথ থেকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ—‘শারদোৎসব’ বাংলার সংস্কৃতিতে
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বাংলা সংস্কৃতির একাধিক উদাহরণ তুলে ধরেন সুজন। তিনি বিশ্বভারতী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘শারদোৎসব’ শব্দটি বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরে বহু পুরনো এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। একইসঙ্গে মহালয়ার আবহে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে’ উচ্চারণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শারদোৎসব কোনও বিচ্ছিন্ন শব্দ নয়; বাংলা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে এই শব্দ গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: Nabanna: মানা হচ্ছে না অগ্নি সুরক্ষা বিধি, কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ নবান্নের
‘থাকল চ্যালেঞ্জ’, বইয়ের স্টল ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা
সবশেষে সুজন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁরা বইয়ের স্টল করবেন এবং মানুষের মধ্যে বই পৌঁছে দেবেন। তাঁর দাবি, মুক্তচিন্তার প্রসারই তাঁদের লক্ষ্য। একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বই ভাঙা ও পোড়ানোর অভিযোগ তুলে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন তিনি।



