Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি (Kolkata Book Fair)। তার মধ্যেই বইমেলায় ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (SFI)-এর মুখপত্র ‘ছাত্র সংগ্রাম’-এর স্টলের সম্ভাব্য থিম নিয়ে সামনে এল ভিন্নধর্মী ভাবনা। প্যালেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামকে এবারের স্টলের মূল ভাবনা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে সংগঠনটি। কেন এই বিষয়কে বেছে নেওয়া হচ্ছে, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে।
দেবাঞ্জনের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ছাত্র সংগ্রাম’-এর স্টল থেকে প্যালেস্টাইনের মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। তাঁর দাবি, বইমেলার থিম হিসেবে ইজরায়েলকে সামনে রাখার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই প্যালেস্টাইনের প্রসঙ্গকে সামনে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে তাঁদের সংগঠন।
ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান (Kolkata Book Fair)
সাক্ষাৎকারে দেবাঞ্জন দে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনে গণহত্যার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্যালেস্টাইনের মানুষের উপর অত্যাচার ও প্রাণহানি ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের পাশে আমেরিকার সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, প্যালেস্টাইনের মানুষের মুক্তিসংগ্রামের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের স্টলের মূল রাজনৈতিক ও মানবিক বার্তা হতে চলেছে। একই সঙ্গে এই বিষয়কে বইমেলার মতো সাংস্কৃতিক পরিসরে তুলে ধরাকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ‘ঐতিহাসিক ধারা’ নিয়ে প্রশ্ন (Kolkata Book Fair)
দেবাঞ্জন দে-র বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতি। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে ভারত প্যালেস্টাইনের মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতে প্যালেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকেছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে সেই ঐতিহাসিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি মনে করেন, ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই বিতর্ককে তরুণ প্রজন্মের সামনে নিয়ে আসাও জরুরি।

আদানি প্রসঙ্গেও সরব দেবাঞ্জন (Kolkata Book Fair)
ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে আদানি গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়টিও উল্লেখ করেন দেবাঞ্জন দে। তাঁর দাবি, ইজরায়েলের হাইফা বন্দরের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে এবং সেই কারণেই ভারতের বিদেশনীতি প্রভাবিত হচ্ছে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ ও মতামত, এমন কোনও দাবি সাক্ষাৎকারে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
‘বাংলার ছেলেমেয়েদের প্রকৃত পাঠ’ দেওয়ার দাবি (Kolkata Book Fair)
দেবাঞ্জনের মতে, প্যালেস্টাইনের প্রসঙ্গকে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয় হিসেবে না দেখে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার ছাত্রছাত্রীদের সেই ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করতেই ‘ছাত্র সংগ্রাম’-এর স্টলে প্যালেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামকে তুলে ধরা হবে। অর্থাৎ, বইমেলায় তাঁদের স্টল শুধু বই বিক্রির জায়গা নয়, বরং রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ইতিহাসের একটি বিকল্প পাঠ তুলে ধরার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে, এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক।

অনুমতি না মিললেও কি থামবে ভাবনা? (Kolkata Book Fair)
সবশেষে প্রশ্ন ওঠে, প্যালেস্টাইনকে থিম হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যদি অনুমতি না পাওয়া যায়, তাহলে কী করবে সংগঠন? তার উত্তরে দেবাঞ্জন দে বলেন, সরকার অনুমতি দেওয়ার কে এই প্রশ্নই তিনি তুলতে চান। তাঁর বক্তব্য, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসই প্যালেস্টাইনের মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে।
আরও পড়ুন: Nabanna: মানা হচ্ছে না অগ্নি সুরক্ষা বিধি, কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ নবান্নের
ফলে আগামী বইমেলায় ‘ছাত্র সংগ্রাম’-এর স্টল ঘিরে প্যালেস্টাইনকে কেন্দ্র করে কী ধরনের উপস্থাপনা দেখা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বইমেলার মতো বৃহৎ সাংস্কৃতিক মঞ্চে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ছাত্ররাজনীতি এবং প্রতিবাদের ভাষা—এই তিনের মেলবন্ধন কতটা জায়গা করে নেয়, এখন সেটাই দেখার।



