Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আগে যে কোনও সরকারি কর্মসূচি বা মেগা ইভেন্ট মানেই ছবিটা ছিল পরিচিত। নন্দনে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হোক কিংবা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল ম্যাচ, রাজত্ব করত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল বিশাল কাটআউট ও ফ্লেক্স। বিরোধীরা প্রায়শই অভিযোগ তুলতেন, ‘খেলার মাঠ কিংবা সংস্কৃতির মঞ্চকেও নিজের প্রচারে ব্যবহার করছে শাসকদল।’ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি (BJP)। কিন্তু ব্যবস্থা কিংবা পরিকাঠামোর ধারায় আদতে কি কোনও পরিবর্তন এল, নাকি শুধুই মুখ বদল (Modi-Suvendu Cutout) হল?
পেলের ছবি সরিয়ে যুবভারতীতে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ফ্লেক্স (Modi-Suvendu Cutout)
দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে ফুটবলের মেগা আবহে সেজে উঠেছে তিলোত্তমা। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে কলকাতায় পা রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বজয়ী ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং রাশিয়া দল। এই মেগা ফ্রেন্ডলি ম্যাচকে সামনে রেখে একেবারে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে। দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে স্টেডিয়ামে আনা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বেশ কিছু পরিবর্তন (Modi-Suvendu Cutout)। প্রতিটি আসনে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট নম্বর, যার ফলে এবার দর্শকরা নির্দিষ্ট আসন দেখেই টিকিট কাটতে পারবেন। পাশাপাশি নতুন করে সাজানো হয়েছে শৌচাগার, র্যাম্প এবং গ্যালারির লবিতে থাকছে ফুড স্টলের ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন:Brazil Football Team: নিজেদের শেফের হাতের খাবারেই ভরসা! কী থাকছে ব্রাজিলীয় ফুটবলারদের মেন্যুতে?
তবে এই পরিকাঠামোগত সংস্কারের মাঝেই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পলিটিক্যাল কালচারের রদবদল। স্টেডিয়ামের দেওয়াল থেকে মুছে ফেলা হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। এমনকী, প্লেয়ারদের টানেলের দু’দিকে দীর্ঘদিন ধরে শোভা পাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং ফুটবল সম্রাট পেলের ছবিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই জায়গায় এখন লাগানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Modi-Suvendu Cutout) বিশালাকার ছবি।
আরও পড়ুন:Football Brazil: ব্রাজিল-উরুগুয়ের তারকাদের জন্য রাজ্য সরকারের চমক
তৃণমূল আমলের সেই একই ধারায় এখন যুবভারতী জুড়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ঠাঁই পাওয়ায় উঠছে নানান প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের ক্ষমতার হস্তান্তর হলেও সরকারি মেগা ইভেন্টকে ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রচারে ব্যবহার করার যে সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে বাংলায় চলে আসছে, তা থেকে বেরোতে পারল না নতুন সরকারও। খেলার মাঠে ‘মমতাময়’ অতীত ঢেকে এখন মোদি-শুভেন্দুর (Modi-Suvendu Cutout) উপস্থিতিই কি বাংলায় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সংকেত? প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে।


