Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাতদিনের জেল হেফাজতের পর অবশেষে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka)। তবে জেল থেকে বেরোনোর আগে আদালতে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে তাঁদের। জামিনের মুচলেকায় তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে আর কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না। একইসঙ্গে শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন দু’জন।
৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন (Ashutosh Ranka)
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলেই সৌরভ ও আশুতোষের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। তাঁদের আরও তিনদিন জেল হেফাজতে রাখার জন্য দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে সই করে জেল থেকে মুক্তি পান দুই নেতা।
জামিনের শর্ত হিসেবে তাঁরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সংবিধান ও আইন মেনেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে কোনও আন্দোলনের ডাক দেবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন তাঁরা।
যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা ঘিরেই সংঘাত (Ashutosh Ranka)
ঘটনার সূত্রপাত যন্তর মন্তরে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ককরোচ জনতা পার্টির তিন শীর্ষ নেতা—সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শীন্ডে—ব্যারিকেড টপকে এলাকায় প্রবেশ করেন বলে পুলিশের দাবি।
সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়। এরপরই পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং পরদিন গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনজনের মধ্যে দু’জনের জেল হেফাজত (Ashutosh Ranka)
পুলিশের দাবি, তিন নেতাই ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করেছিলেন এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি আগে দেওয়া ৫০ হাজার টাকার বন্ডের শর্তও তাঁরা ভেঙেছেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
অজিঙ্ক শীন্ডেকে অবশ্য পিস বন্ডে সই করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচদিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও জানায় পুলিশ। তবে আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত জেল থেকে মুক্তি পেলেন দুই নেতা।
আরও পড়ুন: Manipur Crisis: ফের উত্তপ্ত মণিপুর, গুলিতে কুকি-জো যুবকের মৃত্যু! বাড়িতে আগুন, বাড়ছে আতঙ্ক
প্রতিশ্রুতির পরেই মিলল স্বস্তি
যদিও পুলিশের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের দাবি, আন্দোলনের অধিকার থেকে তাঁদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জামিনের শর্তে সৌরভ ও আশুতোষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে দিল, আপাতত যন্তর মন্তরে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা বজায় থাকছে। ফলে জেলমুক্তির পরেও তাঁদের আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নজর থাকবে দিল্লি পুলিশের।



