Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘর্ষের ক্ষত এখনও শুকোয়নি মণিপুরে। তার মধ্যেই ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল রাজ্যের একাধিক এলাকায় (Manipur Crisis)। মঙ্গলবার কাংপোকপি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে কুকি-জো সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির। একই সময়ে কামজং জেলায় একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে এসেছে। পরপর এই হিংসার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জঙ্গল থেকে উদ্ধার দেহ, তদন্তে পুলিশ (Manipur Crisis)
মঙ্গলবার কাংপোকপির পি মল্ডিং গ্রামের কাছে গুলি করে খুন করা হয় পাওলেন খংসাই নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি কুকি-জো সম্প্রদায়ের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে গ্রাম লাগোয়া জঙ্গল এলাকা থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। লেইমাখং থানার পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে তদন্ত। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিন মহিলার মৃত্যুর পরেই আরও এক প্রাণহানি (Manipur Crisis)
এর আগে মঙ্গলবার মণিপুরে মেইতেই সম্প্রদায়ের তিন মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁদের মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাকও দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও তার মধ্যেই ফের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তার আশ্বাসের পরেও কীভাবে একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটছে? কেন বারবার সাধারণ মানুষই সংঘর্ষের বলি হচ্ছেন?

কামজংয়ে বাড়িতে আগুন, আতঙ্কে গ্রামবাসী (Manipur Crisis)
শুধু গুলির ঘটনা নয়, কামজং জেলাতেও নতুন করে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোররাতে চাসাদের কাছে খোকাই কুকি গ্রামে একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সন্দেহভাজন জঙ্গিরাই এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে খবর। এর আগে কামজং ছাড়াও কাংপোকপি, উরখুল ও থৌবাল জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের বাসিন্দাদের বাড়ি লক্ষ্য করেও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে।
তিন বছরের সংঘর্ষে শত শত প্রাণহানি (Manipur Crisis)
মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অশান্ত পরিস্থিতি চলছে। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যেও সংঘর্ষের জেরে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। গত এক মাসেই প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: Weather Alert: পুজোর মধ্যেই ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা! কোন কোন রাজ্যে দুর্যোগের আশঙ্কা?
শান্তির আশ্বাসের মাঝেই প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে
পরপর প্রাণহানি, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মণিপুরে আবারও শান্তি ফেরানো নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সোমবার তিন মহিলার মৃত্যুর পর সরকার নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তার পরেই নতুন করে গুলিতে মৃত্যু ও বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় সেই আশ্বাসের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।



