Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়ম বদলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধীরা (Gyanesh Kumar)। উৎসবের মরশুমে সেই আন্দোলনে কিছুটা ছেদ পড়লেও দিওয়ালির আগে ফের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে চাইছে কংগ্রেস। আর সেই লক্ষ্যেই আগামী ৩০ অক্টোবর দিল্লিতে অভিনব কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে ইন্ডিয়া জোট।
কংগ্রেসের দাবি, সংসদের বাইরে সাধারণ মানুষের দরবারে প্রতীকী ‘ইমপিচমেন্ট’-এর আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনও বাস্তব অপসারণ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে জনমত তুলে ধরাই হবে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
দিল্লির বুকে তৈরি হবে ‘প্রতীকী সংসদ’ (Gyanesh Kumar)
কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, ৩০ অক্টোবর দিল্লিতে একটি প্রতীকী সংসদ ভবন তৈরি করে সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব’ আনা হবে। এই কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদ এবং বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইতিমধ্যেই জোটের শরিকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করছেন। ওই মঞ্চ থেকেই সাধারণ মানুষের মতামত তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানানো হবে।
‘জনতার ইমপিচমেন্ট’-এর পর ‘দিল্লি চলো’ (Gyanesh Kumar)
৩০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন কোনও প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে না বিরোধীরা। এর পরেই আন্দোলন আরও বড় আকার নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের মেগা জনসভা রয়েছে। সেই সভার আগে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক আবহ তৈরি করতে চাইছে কংগ্রেস।
বিরোধীদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা সামনে আনাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তবে এই ধরনের প্রতীকী ইমপিচমেন্ট ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে কার্যত নজিরবিহীন বলেই দাবি করা হচ্ছে।
বিজেপির কটাক্ষ, ‘পুরোটাই নাটক’ (Gyanesh Kumar)
অন্যদিকে, কংগ্রেসের এই কর্মসূচিকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক আন্দোলনের মঞ্চে টেনে এনে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। বিজেপি সাংসদ তথা মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের অভিযোগ, নির্বাচনী ফলাফলের বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরেই কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: Jogen Chowdhury: গুরুতর অসুস্থ যোগেন চৌধুরী, ভেন্টিলেশনে প্রখ্যাত শিল্পী
বিজেপির আরও বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি থাকলে সংবিধান নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সংসদে প্রস্তাব আনতে পারে বিরোধীরা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের নেই। তাই সংসদের বদলে এবার ‘জনতার দরবারে’ প্রতীকী ইমপিচমেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে।



