Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যুবভারতীতে আল সিবের কাছে ০-২ গোলে হার (East Bengal vs Al Seeb)। ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে পরপর দুই গোল হজম করে কার্যত এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা শেষ লাল-হলুদের। তার উপর আনোয়ার আলির চোট নতুন করে চিন্তা বাড়াল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের।

অঙ্কের খাতায় আশা (East Bengal vs Al Seeb)
হাতে পেনসিল নিয়ে অঙ্ক কষলে এখনও ইস্টবেঙ্গলের পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যুবভারতীতে আল সিবের বিরুদ্ধে হারের পর সেই আশা ধরে রাখা কঠিন। চার ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের একেবারে শেষে লাল-হলুদ। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ আট পয়েন্টে পৌঁছতে পারবে তারা। খাতায়-কলমে সুযোগ থাকলেও দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখে স্বপ্ন দেখার জায়গা ক্রমশ কমছে।

দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন (East Bengal vs Al Seeb)
যুবভারতীতে আল সিবের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশ সাজাতে গিয়ে কোনও চমক দেননি হাবাস। দুই বিদেশি স্ট্রাইকারকে বাইরে রেখে আক্রমণে ডেভিড ও এডমুন্ডকে খেলান তিনি। ম্যাচজুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। বারবার সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগেছে দল। কোচের দল নির্বাচন এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এএকাধিক সুযোগ নষ্ট (East Bengal vs Al Seeb)
ম্যাচের ২০ মিনিটে মহম্মদ রশিদের সুযোগ নষ্ট ছিল সবচেয়ে হতাশাজনক। বিপিনের ক্রস যখন তাঁর মাথায় পৌঁছয়, তখন গোলের নিচে গোলকিপার ছিলেন না। সামনে ছিলেন মাত্র একজন ডিফেন্ডার। কিন্তু রশিদের হেড সাইডবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৩২ মিনিটে দানি রামিরেজের জোরালো শট কোনও মতে বাঁচান আল সিবের গোলকিপার।

দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা বদলায়নি। শুরুতেই সুযোগ নষ্ট করেন ডেভিড। এডমুন্ডের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দানির ট্রিভেলা শটও আটকে দেন প্রতিপক্ষের গোলকিপার। ৬০ মিনিট নাগাদ একে লোবাকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন হাবাস। পরে মাঠে আসেন লুকাস জিলিনস্কিও। কিন্তু আক্রমণে গতি এলেও গোল এল না। বক্সের আশপাশে ঘোরাঘুরি আর একের পর এক ক্রস করেই সময় কাটল লাল-হলুদের।
শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল (East Bengal vs Al Seeb)
গোটা ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েও শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় ইস্টবেঙ্গল। ৭৫ মিনিটে আল সিবের আক্রমণ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন পূর্বা লাচেনপা। এক হাত বাড়িয়ে দুর্দান্ত সেভ না করলে তার আগেই পিছিয়ে পড়তে পারত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিপদ এড়ানো যায়নি।

৮৫ মিনিটে জোরালো শটে আল সিবকে এগিয়ে দেন তাদের আক্রমণভাগের ফুটবলার। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে মান্ডিকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশ করেন তিনি। এরপর ৯১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্বিতীয় গোল করেন জাহির আল আঘবারি। মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের যাবতীয় আশা শেষ হয়ে যায় লাল-হলুদের।

আনোয়ারের চোটে আরও চিন্তা (East Bengal vs Al Seeb)
তবে ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছিল ম্যাচের শুরুতেই। ১৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আনোয়ার আলি। প্রাথমিকভাবে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা বলে মনে করা হচ্ছে। চোট কতটা গুরুতর, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। হাবাস দলের একাধিক ফুটবলারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলালেও আনোয়ারকে নিয়মিত ভরসা করেছেন। তাই তাঁর চোট আইএসএলের আগে লাল-হলুদ শিবিরের চিন্তা বাড়াবে।

আরও পড়ুন: World Cup 2027: ভারত-পাক মহারণের টিকিটের জন্য ৮৪ লক্ষ আবেদন!
এবার লক্ষ্য আইএসএল (East Bengal vs Al Seeb)
আনোয়ারের বিকল্প হিসেবে সন্দীপ মান্ডি ও লালচুংনুঙ্গাদের উপর ভরসা করতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal vs Al Seeb)। কিন্তু রক্ষণে ধারাবাহিকতার অভাব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। অন্যদিকে, আক্রমণে সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে না পারার পুরনো সমস্যা কাটেনি। ফলে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর অভিযান কার্যত শেষের মুখে। এবার হাবাসের সামনে বড় পরীক্ষা আইএসএল। সেখানে দল নির্বাচন ও প্রথম একাদশ নিয়ে অযথা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে বের করাই হবে স্প্যানিশ কোচের প্রধান চ্যালেঞ্জ।



